Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৫-২০১৬

দেশের কাজের আনন্দে অবসর ‘ভুলে আছেন’ মুহিত

দেশের কাজের আনন্দে অবসর ‘ভুলে আছেন’ মুহিত

ঢাকা, ২৫ মার্চ- জীবনের ৮৩ বছর পার করে এসে অবসরের টান অনুভব করলেও মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর সেই স্বপ্নের আদলে দেশ গড়ার ‘আনন্দের জোরে’ এখনও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরের পটপরিবর্তন এবং একানব্বইয়ে গণতন্ত্রে ফেরার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথরেখা নিয়েও কথা বলেন নয়বার জাতীয় বাজেট দেওয়া এই রাজনীতিবিদ।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসন পেরিয়ে ১৬ বছরের মাথায় স্বৈারাচার পতন এবং গণতান্ত্রিক যাত্রাকে মুহিত অভিহিত করেন ‘ইতিবাচক সূচনা’ হিসেবে।

তিনি বলেন, “সেই পরিবর্তনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত- আমারও একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়। সেই সুযোগ অনেকেরই হয় না। কারণ মুক্তিযুদ্ধ অনেকেই করে, বিভিন্নভাবে করে। কিন্তু যে সৌভাগ্যটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পরে, যে স্বপ্ন দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করলাম, সেই স্বপ্নটাকে অর্জন করতে অবদান রাখা।

“আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি, এই ৮৩ বছর বয়সেও আমি দেশ সেবায় নিযুক্ত আছি। যদিও অবসর গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এটা একটা আনন্দ। দেশ সেবা একটা মহা আনন্দের বিষয়। সেই আনন্দের জোরে আমি এখনো সক্ষমভাবে চলতে আছি। আমার এর চেয়ে বড় পাওয়া হতে পারে না।”

একাত্তরে প্রবাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

‘স্বাধীনতা উৎসব ২০১৬’ শীর্ষক এই সভায় মুহিত বলেন, “আজকের দিনটা আমাদের জন্মদিন। দুপুর রাতে আমাদের জন্ম হয়েছে। এই দিনে অনেক কথাই মনে আসে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, গণতন্ত্রের জন্য শোষণের বিরুদ্ধে। আমরা চেয়েছি, আমাদের জীবন যাতে নিজেদের ইচ্ছামত গড়ে তুলতে পারি। তাতে যখন বাধা আসলো, তখনই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা পাওয়ার কথাও অর্থমন্ত্রী স্মরণ করেন।

“আমাদের এক কোটি মানুষ সেখানে আশ্রয় পেয়েছে। ভারত আমাদের প্রস্তুতিতে যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন- তার ব্যবস্থা করেছে। অস্ত্রশস্ত্রও সরবরাহ করেছে। সেখানে ইন্দিরা গান্ধী অত্যন্ত কৌশলের সঙ্গে আমাদেরকে সহায়তা দেন।”

একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা স্মরণ করে মুহিত বলেন, “তিনি  (ইন্দিরা) বলেছেন, এত বড় গণহত্য হচ্ছে, সেজন্য তোমরা কিছু করো। অক্টোবরে ১১টি দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তখন সাহায্য যখন আসেনি, বললেন, ‘আমার আর কোনো উপায় নেই। এই আগ্রাসনকে আমাকে মিট করতেই হবে।’ তারপর শুরু ৩ ডিসেম্বরের যুদ্ধ।”

একাত্তরের নভেম্বরে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা যখন কোণঠাসা হয়ে আসে তারই এক পর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর ‘অপারেশন চেঙ্গিস খান’ নাম দিয়ে ভারতের বিমানবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ও রাডার স্টেশনে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলা হয় কাশ্মীর সীমান্তেও।

এরপর গঠন হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড, যাদের সম্মিলিত আক্রমণের কয়েকদিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) সমর্থন না থাকলে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে এতো দূর অগ্রসর হওয়া সহজ ছিল না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মুহিত।

“আমরা যুদ্ধে যখন জিতে গেছি, তখন প্রায় হারতে বসেছিলাম, তখন রাশিয়ার উপুর্যপরি তিনটি ভেটো আমাদের রক্ষা করেছে। আমাদের প্রতিবেশী ভারত ছাড়াও মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।... তখন স্বীকৃতি পাওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।”

বিশ শতকে ‘এ রকম জন্ম’ আর কোনো দেশের হয়নি মন্তব্য করে সুইডেন ও নরওয়ের আলাদা হওয়ার দৃষ্টান্ত টানেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মুহিত।

“একমাত্র বিভক্তি যেখানে যুক্ত হয়েছে, সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যুদ্ধ করে। সেটাও অদ্ভুত যুদ্ধ, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠরা যুদ্ধ করে ক্ষমতাশালী সংখ্যালঘিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। সেটা করে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হাসিল করি। আমার জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময়টি হচ্ছে ১৯৭১ সাল।

পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুহিত বলেন, “আমাদেরও দুঃখ গেছে। যেমন অন্য দেশের হয়। যেখানেই কোনো বিপ্লব হয়, সেখানে প্রতিবিপ্লব স্বাভাবিক। ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে এত বড় বিপ্লব হয়েছে, চিন্তার জগতে বিরাট বিপ্লব, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিপ্লব। কিন্তু সেই বিপ্লব টিকে নাই। সেই বিপ্লব প্রতিবিপ্লবের কাছে হার মানে। সেই প্রতিবিপ্লব জয়ী থাকে ১৭৯১ সাল থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত।

“আরেকটি দেশের কথা আমরা চিন্তা করতে পারি, সেটা বাংলাদেশ। আমাদের দেশে ১৯৭৫ সালে প্রতিবিপ্লব হয়। সেই প্রতিবিপ্লবের দিন মাত্র ১৬ বছর ছিল।১৯৯১ সালে আমরা সেই প্রতিবিপ্লব থেকে মুক্তি পাই। ৯১ সালের পর থেকেই আমার মনে হয়, আমাদের জাতির জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয়।”

জাতীয় জাদুঘরে স্বাধীনতা উৎসবের প্রথম পর্বে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম ৪৫টি দেশের ৪২টির জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

আর/১৭:৩৭/০৮ মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে