Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৫-২০১৬

ঘণ্টা নয় মিনিটে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার

সাব্বির আহমেদ


ঘণ্টা নয় মিনিটে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার
ছবি: আনোয়ার হোসেন রানা এর সৌজন্যে।

ঢাকা, ২৫ মার্চ- সাতরাস্তা থেকে মগবাজার ফ্লাইওভার ঘুরে: এক ঘণ্টা নয় এখন হিসেব হবে মিনিটের। ঘড়ি ধরে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার পৌঁছাতে লাগবে মিনিট দেড়েক। তবে প্রাইভেটকার বা দ্রুতগতির যানে গেলে লাগবে মাত্র এক মিনিট। যানজটে ত্যক্ত-বিরক্ত নগরবাসীর জন্য এই স্বস্তির বার্তার নাম সাতরাস্তা-মগবাজার ফ্লাইওভার। 

মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার সমন্বিত ফ্লাইওভারের মূল দিক হলো সাতরাস্তা থেকে মগবাজার। নির্মাণ শেষে এখন এই অংশটি উদ্বোধনের অপেক্ষায়। রাতে ঘড়ি ধরে ফ্লাইওভার চড়ে মাত্র দেড় মিনিটে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার যাওয়া গেছে। 

অথচ আগে এ রাস্তাটুকু পার হতে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতো। যানজটেও ভোগান্তির কোনো শেষ ছিল না।
 
সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা শুরু হতো প্রথমেই সাতরাস্তার যানজট দিয়ে। তারপর দীর্ঘক্ষণ রাস্তার দু’পাশে থেমে থাকা শত শত গাড়ির সারি। এরপর ধীরে ধীরে একটু এগোনো যখন শুরু তখন এফডিসি-হাতিরঝিল মোড়ে আবার যানজট। তখন বিরক্ত হয়ে অনেক যাত্রী নেমে যেতেন। 

আবার যারা গাড়িতে বসে থাকতেন, তাদের জন্য সামনে রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল। রেল চলে গেলেও যানজট শেষ হতো না। আর তখন মগবাজার পৌঁছাতে পার এক ঘণ্টার বেশি সময়।
 
সেই চিত্র এখন বদলাবে। ফ্লাইওভারে উঠলে এক মিনিটে নেমে যাওয়া যাবে মগবাজারে- নির্মাণ শেষে ফিনিশিং কাজে থাকা শ্রমিকদের ধারণা এমনটাই। বাস্তবেও তাই। চারলেনের এই ফ্লাইওভারে আলাদা আলাদা ভাবে চলবে গাড়ি।

মহাখালী থেকে মগবাজার যাওয়ার জন্য সাতরাস্তা মোড়ের পরে ফ্লাইওভারে উঠে যাবে গাড়ি। আর মগবাজার থেকে মহাখালীতে যেতে রমনার হলিফ্যামলি হাসপাতালের সামনে থেকে উঠলে নামা যাবে সাতরাস্তা পার হয়ে। সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল ও মগবাজার থেকে ফ্লাইওভারে ওঠা যাবে।   
 
ভারতের সিমপ্রেকস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি-এমসিসিসি এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন এ ফ্লাইওভারটি নির্মাণে কাজ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
 
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
সাতরাস্তা থেকে মগবাজার পর্যন্ত এখনই ফ্লাইওভারে উঠে নামা যায়। কিন্তু ফিনিশিং শেষ না হওয়ায় গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না। এজন্য সাতরাস্তা ও মগবাজারে দু’পাশে সারাক্ষণ সিকিউরিটি গার্ডরা তৎপর। বাশের খুঁটি দিয়ে আপাতত পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। দিনের পর রাতেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এখন শুধু গার্ডারে ফিনিশিং করছেন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। লাইটপোস্টে তার টেনে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। আর সাতরাস্তার বেগুনবাড়ি অংশে বাকি থাকা কার্পেটিং শেষ করে নেওয়া হচ্ছে। মধ্যরাতেও কার্পেটিংয়ের জন্য চলছে রোলার। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক মগবাজার থেকে সাতরাস্তায় গভীর রাতেও কাজে ব্যস্ত থাকছেন।
 
প্রকল্প কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার জানান, সাতরাস্তায় যেখানে গাড়ি নামবে তার সংযোগ সড়কের একটু জায়গা কার্পেটিং করা ছিল না। এখন সেই জায়গাটি কার্পেটিং এবং তারপর ফিনিশিং করে দেওয়া হবে। এটি একদিনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। 

ফ্লাইওভার ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবারের (২৬ মার্চ) মধ্যে ফিনিশিং কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন আর কোনো কাজ বাকি থাকবে না। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন ৩০ মার্চ। নিজেই গাড়ি চড়ে তার ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করার কথা।

এস/০৪:৪৫/২৫ মার্চ

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে