Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৪-২০১৬

মহাসড়কই যেন বাসস্ট্যান্ড

মহাসড়কই যেন বাসস্ট্যান্ড

রংপুর, ২৪ মার্চ- ২১ মার্চ। বেলা সাড়ে ১১টা। রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে দিনাজপুর থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস এসে থামল। বাসের ছাদ ও ভেতর থেকে যাত্রীরা নামছেন। উঠলেনও কয়েকজন। বাস থেকে নামা যাত্রীদের পেতে রিকশা আর অটোরিকশার ছোটাছুটি।

আধা ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে আরও কয়েকটি বাস এসে থামল। একইভাবে চলল যাত্রী নামানো ও ওঠানো। এতে মহাসড়কের এই স্থানে গাড়ির জট লেগে যায়। তাতে দুর্ভোগে পড়েন অন্যান্য পরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা।

এই দৃশ্য শুধু সেদিনের নয়, প্রতিদিনের। যেন মহাসড়কটিই বাসস্ট্যান্ড। অথচ এক কিলোমিটার দূরেই রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। বেশ কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাসচালকদের খামখেয়ালি তো আছেই, এ জন্য যাত্রীরাও দায়ী। তাঁরাই বাসস্ট্যান্ডের বদলে মেডিকেলের সামনে নামতে চান।

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট জায়গায় বাস না থামিয়ে স্ট্যান্ডের সামনের সড়কে গাড়ি থামান চালকেরা। নিত্যদিনের এ কাণ্ডে যত ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশও কোনো ভূমিকা রাখে না বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

তবে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সামসুল আলম দাবি করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অনেকবার উদ্যোগ নিয়েছি। বাসচালকদের নিষেধও করা হয়। কিন্তু কাজ হয় না।’ তাহলে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা কী, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, লোকবল-সংকটের কারণে সব জায়গায় নজরদারি করা সম্ভব হয় না।

২১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেডিকেল মোড়ে অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, এই আধা ঘণ্টায় ১১টি বাস ও মিনিবাস মহাসড়কের দুই পাশে থেমেছে। সড়কের পূর্ব দিকে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা থেকে বাসগুলো এসেছে। অথচ এটি কোনো নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড বা বাস স্টপেজ নয়।

এভাবে বাস থামানোয় মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি ও মানুষের জট লেগে যায়। দুর্ভোগে পড়তে হয় মেডিকেলে আসা রোগী ও স্বজনদের। অটোরিকশায় করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন হোসেন আলী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য দূরেই বাসস্ট্যান্ড। কিন্তু সেখানে যাত্রী না নামিয়ে ব্যস্ততম এ জায়গাটিতে বাস থামানো হয়। এ কারণে দুর্ভোগের শেষ নেই। সুন্দরগঞ্জ থেকে রোগী নিয়ে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক রহমত আলী বলেন, মেডিকেল গেটের সামনে এভাবে বাসযাত্রী নামানোর দৃশ্য প্রতিদিনের। ফলে প্রায়ই ঝামেলায় পড়তে হয়।

মহাসড়কে বাস থামানোর বিষয়ে ইছহাক মিয়া নামে এক চালক বলেন, বাসস্ট্যান্ডের আগে এই স্থানে অধিকাংশ যাত্রী নামতে চান বলেই এখানে তাঁদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এটি তেমন দোষের কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই দিন বেলা একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান করে দেখা যায়, সেখানে একতলা ভবনে যাত্রীদের বসার স্থানে কোনো যাত্রী নেই। দূরপাল্লার ও আন্তজেলার বাসগুলো ভবনটির চারদিকে রেখে যাত্রী নামানো-ওঠানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। বাসগুলো এসে থামছে টার্মিনালের সামনের ব্যস্ততম মহাসড়কে। সেখানেই যাত্রী নামছে, উঠছে। এই আধা ঘণ্টায় দুই দিক থেকে নয়টি বাস এসে মহাসড়কে থামিয়ে যাত্রী ওঠায় ও নামায়।

এস/০১:৩৫/২৪ মার্চ

রংপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে