Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৪-২০১৬

বান্দরবানে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট

মো. ইসহাক


বান্দরবানে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট

বান্দরবান, ২৪ মার্চ- বান্দরবান পার্বত্য জেলায় গ্রীষ্মের শুরুতেই বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জেলার দুর্গম এলাকার ঝিরি-ঝর্ণায় পানির উৎস নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলা সদরসহ পাহাড়ি এলাকার লোকজন তীব্র খাবার পানি সঙ্কটে ভুগছে।

দীর্ঘ দিন আগে বান্দরবান পৌর পানি বিতরণ কেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণ দেখিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। তবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। এ কারণে বান্দরবানের মেম্বার পাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, বনরূপা পাড়া, হাফেজ ঘোনা, বনানী সমীল এলাকা, ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, বাসস্টেশন, উজানী পাড়া, মধ্যম পাড়া, নিউগুলশানসহ বিভিন্ন পাড়ার কয়েক লাখ মানুষ পানি সঙ্কটে ভুগছে।

এসব এলাকায় সরকারিভাবে যে সকল টিউবওয়েল ও রিংওয়েল দেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর যেগুলো সচল আছে তাও তালা মেরে রেখেছে জমির মালিকরা। ফলে বধ্য হয়ে ঝিরি-ঝর্ণা, পুকুর, নদী-ছড়ার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে জেলায় প্রতিনিয়ত নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, অবাধে পাথর উত্তোলন ও নানা ধরনের বনজ সম্পদ আহরণের ফলে পানির উৎস খ্যাত বিভিন্ন ঝিরি ও পাহাড়ি ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেটে কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি-ঝর্ণা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে পাহাড়ি নারীরা। টংকাবতী চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা পায়াং মুরুং জানান, পাড়ার ঝিরি দিয়ে পাথর ভর্তি ট্রাক চলাচল করায় ঝিরির পানিও ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। পাড়ায় পানির খুব অভাব আর এ কারণে পাড়ার লোকজন বাধ্য হয়ে ঝিরির ঘোলা পানি ব্যবহার করছে। খাবার পানি পেতে হলে অনেক দূর পাহাড়ি পথ পায়ে হেটে যেতে হয় তাদের। নিচু পাহাড়ে নামতে অনেক কষ্ট হয়। নামলে আবার উঠতে আরেক কষ্ট। তাই পাড়ার লোকজন ঝিরির ঘোলা পানি খাবারসহ নানা কাজে ব্যবহার করছে।

এদিকে ঝিরির ঘোলা পানি ব্যবহার করায় লোকজনের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার একাধিক পাড়া কারবারীরা জানিয়েছেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও এনজিও সংস্থাগুলোর উদ্যোগে নির্মিত রিংওয়েল, গভীর নলকূপ, পাতকুয়া এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকেও বর্তমানে পানি পাওয়া যাচ্ছেনা।

অপর দিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি অধিকাংশই দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাস করে। এসব মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে জেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা বিগত কয়েক বছরে কয়েক হাজার রিংওয়েল-নলকূপ খনন করে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো রিংওয়েল-নলকূপ খননে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি ওঠে না। এছাড়া অধিকাংশ কল অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মঞ্জেল হোসেন জানান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোটর নষ্ট হয়ে পড়ায় পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে তারা তা সমাধানের জন্য দিনরাত আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পুরোপুরি ঠিক হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অপরিকল্পিত জুম চাষের ফলে জেলায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। তাই প্রতি বছর গ্রীষ্মের শুরুতেই পানির অভাব দেখা দেয়।

এস/১২:৩৫/২৪ মার্চ

বান্দরবান

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে