Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২৪-২০১৬

এক রানের আফসোস

এক রানের আফসোস

বেঙ্গালুরু, ২৪ মার্চ- বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটিতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলেছে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৫ রানে। ফলে এক রানের আফসোসের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাশরাফি বাহিনী।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আশিষ নেহরার প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। কিন্তু বাউন্ডারি হবে কি হবে না, তা নিয়ে ছিলেন শঙ্কায়। তাই অপর ওপেনার মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জায়গা বদল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে উইকেটের মাঝখানে আসতেই বোলার নেহরার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তামিম। মাথায় আঘাত লাগায় অনেকক্ষণ শুয়ে থাকেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। শুশ্রূষার পর ফের ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। ওই ওভারের পঞ্চম বলেই আউট হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তামিম। নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিতে পারেননি নেহরা। বেঁচে গেলেন তামিম!

দলীয় ১১ রানের মাথায় বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের স্পিনারের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে হার্দিক পান্ডের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৩ বল খেলে ১ রান করেই সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তামিমের সঙ্গে পরিবর্তিত ওপেনিং জুটিতে এসে এ কী করলেন মিঠুন? পারলেন না নামের প্রতি সুবিচার করতে।

পঞ্চম ওভারে ফের জীবন পান তামিম। অশ্বিনের বল শুন্যে ভাসিয়ে দেন তিনি। ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে দুইবার জীবন পেয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না তামিম। রবিন্দ্র জাদেজার বলে ধোনির কাছে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। বিদায়ের আগে ৩২ বলে পাঁচটি চারে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান।  

ভালোই খেলছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মান। কিন্তু সামান্য ভুলেই শেষ হয়ে গেল তার পথচলা। ভারতের পার্টটাইম বোলার সুরেশ রায়নার বলে শট নেন সাব্বির। কিন্তু ব্যাটে বলে ঠিকমতো হয়নি তার। একটা পা ভেতরেই ছিল, কিন্তু একটা সেকেন্ডের জন্য মাটি থেকে তার ওপরে উঠে যায়। ওই সময়েই স্টাম্প ভেঙে দিলেন ধোনি। মুখ ভার করে সাব্বির বেছে নিলেন সাব্বির। ১৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২৬ রান করেন তিনি।

সাব্বিরের বিদায় পর ব্যাট হাতে নেমে পড়েন অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু দ্রুতই ক্রিজ ছাড়লেন তিনি। জাদেজার বল খেলতে গিয়ে সামনে এগিয়ে আসেন। কিন্তু বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন টাইগার দলপতি। পাঁচ বলে ৬ রানেই বিদায় নেন তিনি। আশা জাগিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানও। কিন্তু ২২ রানেই থামে তার ইনিংস। হার্দিক পান্ডের বলে সুরেশ রায়নার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ১৫ বলে দুটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ সাবলিল ঢঙে ব্যাট করতে থাকেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। রানের চাকাও দ্রুত ঘুরতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দুটি ছক্কার মার খেলেও শেষ বলে সাজঘরে ফেরত পাঠান রোহিত শর্মাকে। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে তালুবন্দী হন রোহিত। তিনি করেন ১৬ বলে ১৮ রান। ভারতের দলীয় রান তখন ৪২। সপ্তম ওভারে আবারো বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাস। এবার সাকিব আল হাসান। সপ্তম ওভারের শেষ বলে ভারতের আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিছুই করার ছিল না ধাওয়ানের। পুরোপুরি পরাস্ত। সাজঘরে ফেরার আগে ধাওয়ান করে যান ২২ বলে ২৩ রান। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কার মার।

আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়ের নায়ক বিরাট কোহলি জ্বলে উঠতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভারতের এই পোস্টারবয়কে বেশিদূর এগোতে দিলেন না শুভাগত। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কোহলিকে সরাসরি বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। ২৪ বলে একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন কোহলি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিল সুরেশ রায়না ও হার্দিক পাণ্ডে। তবে ১৬তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে এই দুজনকে বিদায় করেন বাংলাদেশের পেসার আল আমিন হোসেন। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সুরেশ রায়না। ২৩ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ৩০ রান করে ফেরেন রায়না। এরপর আল আমিনের দ্বিতীয় বলেই আউট হার্দিক পাণ্ডে। দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন আবারো সৌম্য সরকার। পুল শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে সৌম্যের হাতে ধরা পড়েন পান্ডে। সাত বলে দুই চার ও এক ছয়ে ১৫ রান করেন ভারতের এই অলরাউন্ডার। ভারতের দলীয় রান তখন ১১২।

শেষের দিকে ঝড় তুলতে পারেন যুবরাজ। এমন শঙ্কা ছিল। তবে বাংলাদেশ শিবিরে এর কিছুক্ষণ পরই স্বস্তি এনে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ১১৭ রানের মাথায় যুবরাজকে আল আমিনের হাতে ক্যাচ বানান রিয়াদ। ৬ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে জাদেজাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৮ বলে ১২ রান করেন জাদেজা। শেষ পর্যন্ত ধোনি ও অশ্বিন অপরাজিত থাকলে খুব বেশি রান করতে পারেননি তারা। ধোনি ১২ বলে ১৩ ও অশ্বিন ২ বলে ৫ রান করেন।  

বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে দখলে নেন দুই উইকেট। আল-আমিন হোসেনও নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে ৪ ওভারে তিনি খরচ করেছেন ৩৭ রান। ১ ওভারে চার রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোমও।

আর/১২:০৮/২৪ মার্চ

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে