Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

পানির কষ্টে ২০ হাজার শিক্ষার্থী

পানির কষ্টে ২০ হাজার শিক্ষার্থী

বাগেরহাট, ২৩ মার্চ- লবণাক্ত পানি-অধ্যুষিত বাগেরহাটের মংলা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পানির ট্যাংক নেই। পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় যেসব প্রতিষ্ঠানে ট্যাংক আছে, সেগুলোও পানিশূন্য। এ কারণে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী খাওয়ার পানির জন্য কষ্ট পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়, সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি হওয়ায় এ উপজেলার টিউবওয়েলে লবণাক্ত পানি ওঠে। বর্ষায় এ অঞ্চলের মানুষ বৃষ্টির পানি ট্যাংকে ধরে রাখে। অনেক দরিদ্র পরিবারে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময় পুকুর থেকে খাওয়ার পানির চাহিদা মেটাতে হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শামসুন্নাহার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এখানকার পরিবারগুলোতে প্রতিবছর কিছু পানির ট্যাংক বিতরণ করে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যাংক বিতরণও হয় না, ট্যাংক নির্মাণ করাও হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কার্যালয় সূত্র জানায়, মংলায় ৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৩টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি প্রাথমিক, ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫টি মাদ্রাসায় পানির ট্যাংক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ে। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন কিছু ট্যাংক নির্মাণ করে দিয়েছে। সরকার কোনো ট্যাংক নির্মাণ করেনি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এম এ কায়েস বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যাংক নির্মাণে আমাদের বরাদ্দ নেই। এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গত শনিবার ও সোমবার রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, ঠোটারডাংগা ও এটিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিরিয়া বেগম ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, পানির জন্য শিক্ষার্থীরা দারুণ কষ্ট পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যাংক থাকলেও পানি নেই।

শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে পানির ট্যাংক নেই। প্রতিদিনই আমাদের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ৪০ লিটার করে পুকুরের দূষিত পানি কিনতে হয়। ২০ লিটারের এক পাত্র পানি কিনতে হয় ৩০ টাকা দিয়ে। সরকার যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পানির পাকা ট্যাংক নির্মাণ করে দিত, তাহলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যেত। তাহলে শুষ্ক মৌসুমে কষ্ট কম হতো।’

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাদিরা পারভীন বলেন, ‘এখানে একটি বড় ট্যাংক থাকলেও সেটি শূন্য। পাঁচ মাস ধরে এলাকায় বৃষ্টি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে পুকুরের দূষিত পানি শিক্ষার্থীদের খাওয়াতে হচ্ছে। তা-ও কিনে।’

ঠোটারডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বীথিকা রানী শিকদার বলেন, ‘নিজেদের উদ্যোগে দুই হাজার লিটার পানির ট্যাংক কিনেছি। সেটিতে ধরে রাখা পানি শীত আসার আগেই শেষ হয়ে গেছে। তারপর থেকেই পুকুরের দূষিত পানি কিনে বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে।’

এস/১৯:৪০/২৩ মার্চ

বাগেরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে