Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

সবই হয়েছে সাতক্ষীরায়

আনোয়ার হোসেন ও কল্যাণ ব্যানার্জি


সবই হয়েছে সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরা, ২৩ মার্চ- বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি, কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র স্থগিত, পুলিশের গুলি—সবই হয়েছে সাতক্ষীরার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে।

গতকাল মঙ্গলবার জেলার ৭৮টি ইউপির নির্বাচনে কেন্দ্রের আশপাশে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদেরই আনাগোনা দেখা গেছে। এর মধ্যে সরকারি দলের লোকজন ১৩টি কেন্দ্র দখল করেছে। পরে অবশ্য এই কেন্দ্রগুলোর ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আরও কিছু কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে জবরদস্তির অভিযোগ ওঠে। জেলার ৭১৬টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। 
সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউপির বিএনপির প্রার্থী আবু হুদা মো. মোদাচ্ছেরুল হক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। আর আশাশুনির প্রতাপনগর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খালিদুর রহমান একই অভিযোগ তুলে দুপুর ১২টার দিকে ভোট বর্জন করেন। 

বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী এবং তাদের পোলিং এজেন্ট পাওয়া যায়নি অধিকাংশ কেন্দ্রেই। তবে নির্বাচন নিয়ে জোরালো কোনো অভিযোগও তোলেনি তারা। বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মামলাভীতির কারণে তাঁরা অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেননি। তবে তাঁদের ভোটাররা নীরবে ভোট দিতে পেরেছেন। 

কেন্দ্রে কেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতি ও তৎপরতা দেখা গেছে। পুলিশ-বিজিবি সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতও ছিলেন তৎপর। ছিল র্যা বের টহল। কেন্দ্রের সামনে জটলা বা মিছিল দেখার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক স্থানে ধাওয়া দেয়। বিকেলের দিকে কালীগঞ্জের গোবিন্দপুর কেন্দ্রে একদল লোক জটলা করলে বিজিবি ধাওয়া দেয়। এ সময় কয়েকজন পালাতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। 

সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলার ২০টি কেন্দ্রে মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রের বিএনপি ও জামায়াতের এজেন্ট দেখা যায়নি। এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বাকি চারটি কেন্দ্রের কয়েকটি বুথে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া গেছে। এই ২০টি কেন্দ্রের ১৯টিতেই দিনের প্রথম ভাগে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে নারী ভোটারই ছিলেন বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি কমে যায়। কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে তালা উপজেলার কুমিরা ইউপির তিনটি কেন্দ্র দখল করে ভোট কাটতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত এক সদস্য প্রার্থীর লোকজন। আওয়ামী লীগেরই আরেক সদস্য প্রার্থী পাল্টা দখল করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কদ্দুস, আওয়ামী লীগের কর্মী রুবেল ও সমর্থক জবেদা খাতুন গুলিবিদ্ধ হন। রুহুল কুদ্দুস সদস্যপদের প্রার্থী ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

সদরের আলীপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন রাতেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সকালে কেন্দ্রে গিয়ে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। প্রশাসন জানার পর সকাল ১০টার দিকে চারটি কেন্দ্রই স্থগিত করে দেয়।

শ্যামনগরের কৈখালী ও দেবহাটার পারুলিয়ার খেজুরবাড়িয়াতেও সরকারদলীয় লোকজন রাতে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলার অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। 

সকাল সাড়ে আটটার দিকে কেরালকাতা ইউপির বয়ালডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় ৮০ শতাংশই নারী ভোটার ছিলেন। তবে ছয়টি বুথের একটিতেও বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিলেন না। ভোটাররা জানিয়েছেন তাঁরা নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়েছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বরকত আলী বলেন, তিনি কোনো এজেন্ট ফেরত যেতে দেখেননি। সকালে যাঁরা এসেছেন, সবাই আছেন। 

একই অবস্থা দেখা গেছে কেরালকাতার বলিয়ানপুর কেন্দ্রেও। কিন্তু দুপুরের আগে আগে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে মারধর করে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে ভোট দেওয়া শুরু করে সরকারি দলের লোকজন। এ সময় পুলিশ ১৪টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। 

একই ইউপির রতনপুর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগদলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে আটজন আহত হয়। সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়নি। 

দুপুরের দিকে সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়ি ইউনিয়নের কাসেমপুর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের বড় সারি। বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া যায়নি। তবে ভোটাররা নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। 

দেবহাটার কুলিয়া ইউপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোটারের উপস্থিতি ভালো ছিল। বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কয়েকজন ভোটার একে ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন।

এস/১৯:২০/২৩ মার্চ

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে