Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

কী আছে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তিতে

কী আছে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তিতে

ঢাকা, ২৩ মার্চ- বাংলাদেশ ও ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লায় ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ভারতের আগরতলায় ১০ জিবিপিএস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বক্তব্য রাখেন।

কী আছে ওই চুক্তিতে? জেনে নেই চুক্তির প্রধান বিষয় ও পরিকল্পনাসহ কিছু মূল তথ্য।

২০১১ সালে ত্রিপুরায় পালাটানা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বাংলাদেশ সরকার ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহে অনুমতি দেয়। ফলে ত্রিপুরা থেকে ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ বিষয়ক সপ্তম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ/স্টিয়ারিং কমিটির সভায় (ঢাকা, এপ্রিল ২০১৪) গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রিপুরা থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।


গত ৯ জানুয়ারি ২০১৫ ঢাকায় ত্রিপুরার বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সফরকালে অনুষ্ঠিত যৌথ কারিগরি কমিটির সভায় দামের বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। পিজিসিআইএল সূর্যমণিনগর (আগরতলা) থেকে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত ৪শ’ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে। অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ লিমিটেড।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে ২০১৫ সালের জুনে আখাউড়ায় আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ রপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)-এর মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

বিএসসিসিএল ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়া পর্যন্ত, আগরতলার কাছাকাছি, ৩০ কিমি দূরত্বসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন করেছে এবং বিএসএনএল সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিসহ আগরতলায় আন্তর্জাতিক দূর-দৈর্ঘ্যের (আইএলডি) ফটক নির্মাণ করেছে।

ভারত ইতোমধ্যে বহরমপুর-ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বাংলাদেশ সফরে একই আন্তঃসংযোগ লাইনের মাধ্যমে আরও ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেয়া হয়।

এছাড়া, ভারতের এনটিপিসি এবং বাংলাদেশের বিপিডিবি ১৩২০ মেগাওয়াটসম্পন্ন রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি যৌথ উদ্যোগ (বিআইএফপিসিএল) হাতে নিয়েছে, যেটি সম্পন্ন করার জন্য ভারতের ভেল (বিএইচইএল) কোম্পানি সম্প্রতি ইপিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং সহযোগিতার জন্য অনেক ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ত্রিপুরা ঐতিহ্যগতভাবে একটি বিশেষ সম্পর্ক লালন করে। এই প্রকল্পগুলো এই বিশেষ সম্পর্কটিতে একটি অনন্য মাত্রা যোগ করে। এগুলো দু’টি দেশের জন্য একটি উইন-উইন অংশীদারিত্বের প্রতীক।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় এই বিদ্যুৎ সংযোগ আরেকটি সাফল্যের মাত্রা যোগ করেছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি ত্রিপুরা, তথা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সহায়তা করবে।

আর/১৮:১২/২৩ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে