Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

গুলিতে আ.লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ভাইসহ নিহত ২

গুলিতে আ.লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ভাইসহ নিহত ২

কক্সবাজার, ২৩ মার্চ- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুলিতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ভাইসহ দুজন নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. শফিক আলম (৩২) ও আবদুল গফুর (৪২)। আবদুল গফুর আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেনের ভাই।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে সদস্য পদপ্রার্থী সলিম উল্লাহ ও নুরুল আমিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. শফিক আলম ঘটনাস্থলে নিহত হন। তিনি শাহপরীর দ্বীপের মাঝরপাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে।
দুদু মিয়া ছেলের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শফিকের লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্ডার ডেইল আল হোসাইনিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম টেকনাফ উপজেলা সদরে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নুর হোসেনের সমর্থকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি আটকান। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে আবদুল গফুর, রহিমা বেগম, নেছার বেগম, নুর বেগম, সেফা আক্তার ও শফিক উল্লাহ আহত হন। আহত ব্যক্তিদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে গফুর মারা যান। তাঁর লাশ টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করে ব্যালট উপজেলা সদরে নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নুর হোসেনের সমর্থকদের ওপর গুলি করেন। এতে অর্ধশতাধিক আহত হয়।
গফুরের বড় ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, কেন্দ্রে ভোট গণনা না করে ব্যালট পেপার উপজেলা সদরে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালায়। এতে তাঁর ভাই মারা যান।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম ও টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মজিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

সরেজমিন: ভোট গ্রহণের সময় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জিয়াউর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদীয়া রিয়াজুল জান্নাহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তবে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম। ছেলের কাঁধে ভর করে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ৭৫ বছর বয়সী আহমদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘খুব কষ্ট হয়েছে আসতে। তবে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি।’

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কচুবনিয়া নুরানি মাদ্রাসা কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছৈয়দ হুমায়ুন মোর্শেদ বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় ঘুম থেকে জেগে দেখি কেন্দ্রের বাইরে অনেক নারী ভোটার উপস্থিত হয়েছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লম্বরী লেঙ্গুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ সারি। আমেনা বেগম নামের এক ভোটার বলেন, তিনি দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। খুব বেশি এগোতে পারেননি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রূপন কান্তি বড়ুয়া বেলা ১১টার দিকে বলেন, এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

বেলা দেড়টার দিকে পল্লানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র ছিল প্রায় ফাঁকা। ওই সময় এক-দুজন করে ভোটারকে ভোট দিতে আসতে দেখা যায়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, ওই সময় পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬৫ ভোট পড়েছে।
সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী শাহাজাহান বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী কিছু বহিরাগত আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে পল্লানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে স্থানীয় ভোটাররা তা প্রতিহত করেন। এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে।

এক কেন্দ্রে সংঘর্ষ: টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১০-১৫ গজ দূরে সদস্য প্রার্থী আবুল হোসেন, রশিদ মিয়া ও উমর হাকিমের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে পাঁচ বছরের শিশু নুরুল আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শ্রুতি পূর্ণ চাকমা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নূরে আলম দ্বীন বলেন, আহত ২০ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই তিনজন সদস্য প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ভোটের আগের রাত থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করায় টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, সাবরাং, বাহারছড়া ও সেন্ট মার্টিনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

এস/০২:০৫/২৩ মার্চ

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে