Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

হাতিয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ সুবর্ণচরে দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

হাতিয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ সুবর্ণচরে দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

নোয়াখালী, ২৩ মার্চ- নির্বাচন কর্মকর্তাকে গুলি, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে। বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার হাতিয়া উপজেলার সাতটি এবং সুবর্ণচর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে সুবর্ণচরে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। 

ভোট গ্রহণ শুরুর আগে হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের দাসপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই নির্বাচন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল ও পোলিং কর্মকর্তা শাহদাত হোসেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত শাহদাত হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, চরকিং ইউনিয়নে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত পোলিং কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

চরকিংয়ের গুলির ঘটনা ছাড়াও দিনভর উপজেলার জাহাজমারা, বুড়িরচর, তমরুদ্দিন, সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও হামলায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সকাল আটটা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্রেই নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 

এদিকে চরকিং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মহিউদ্দিন মহিন ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইয়াছির অরাফাত অভিযোগ করেছেন, নৌকার প্রার্থীর লোকজন দুই ইউনিয়নের সব কটি কেন্দ্র সকালেই দখল করে নেন এবং তাঁদের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসান মো. মঈন উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় কোনো সংঘাত হয়নি। 

সুবর্ণচর উপজেলার আটটি ইউনিয়নেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ চররশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধর করে কিছু ব্যালট পেপার ও সিল ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোস্তফা মিয়া। 

বেলা দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের সমিতির বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে দুই সদস্য প্রার্থীর লোকজন জাল ভোট দেওয়া শুরু করলে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা। 

এদিকে ভোট গ্রহণ চলাকালে চরক্লার্কের কেরামতপুর, পূর্বচরবাটা যোবায়ের বাজার, চরবাটার দক্ষিণ-পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ বিক্ষিপ্ত হামলা-সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দুপুর ১২টায় চরজব্বার ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ মিয়া ও চরওয়াপদা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জামাল উদ্দিন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন
জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুবর্ণচরের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। বিশৃঙ্খলার কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এস/০২:০০/২৩ মার্চ

নোয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে