Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

কনটেইনার পরিবহনে আয় বাড়াতে চায় রেলওয়ে

কনটেইনার পরিবহনে আয় বাড়াতে চায় রেলওয়ে

চট্টগ্রাম, ২৩ মার্চ- আয় বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোসহ (আইসিডি) সারা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন বাড়াতে ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মদ সভাপতিত্ব করেন। এতে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) সরদার সাহাদাত আলী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, কনটেইনার অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বারসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধিরা। গতকাল বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে বৈঠক চলে।

বৈঠকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি ও রপ্তানির পণ্যবাহী কনটেইনার রেলপথে পরিবহন বাড়ানোর তাগিদ দেন। রেলে পণ্য পরিবহন নিরাপদ ও খরচ কম বলে ব্যবহারকারীদের বলা হয়। রেলে কনটেইনার পরিবহন বাড়লে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে এবং চুরির আশঙ্কা থাকবে না বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পণ্য পরিবহনের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচটি রেক (প্রতিটি রেকে একটি ইঞ্জিন ও ৩০টি ওয়াগন) দিয়ে কনটেইনার পরিবহন করে আসছে। কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর জন্য আরও ২০০ ওয়াগন আনা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও তিন-চারটি নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া পরিচালন সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের জানানো হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সরদার সাহাদাত আলী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বেশির ভাগ অংশ ডাবল ট্র্যাক (পাশাপাশি দুটি লাইন) হয়ে গেছে। ফলে রেলের পরিচালন সময় অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় রেলের কনটেইনার পরিবহন অনেক বাড়ানো সম্ভব। তাই ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরা এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন।

সরদার সাহাদাত বলেন, ‘কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর জন্য আমরা আরও ২০০ ওয়াগন বহরে যুক্ত করেছি। যদি রেলপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো যায়, তাহলে আমাদের আয় বাড়বে। আর মহাসড়কের ওপর গাড়ির চাপ কমবে।’
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডি পর্যন্ত প্রতিদিন আমদানি ও রপ্তানি মালামাল পরিবহনের জন্য ১৯৮৭ সালে কমলাপুরে আইসিডি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কেবল একটি লাইন ছিল। এ কারণে কনটেইনারবাহী ট্রেনের গড় পরিচালন সময় ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। বর্তমানে বেশির ভাগ অংশ ডাবল লাইনে পরিণত হওয়ায় কনটেইনারবাহী ট্রেনের পরিচালন সময় ৮-১০ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম রেলওয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘নদী ও রেলপথে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক কম এবং নিরাপদ। আগে তো নদী ও রেলপথে পণ্য পরিবহন হতো। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে। আর রেলপথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কমালে হলে ব্যবসায়ীরা আকৃষ্ট হবে।’
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মাত্র ৩৮ হাজার ৭৮১ কনটেইনার পরিবহন করে রেল আয় করেছে ৪০ কোটি সাড়ে ৬৮ লাখ টাকা। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে এই ছয় মাসে কনটেইনার ওঠা-নামা হয় ১০ লাখ ৪৯ হাজার, যার প্রায় ৪ শতাংশ ট্রেনে পরিবহন হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৮১ হাজার ৯৩০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার আইসিডিতে পরিবহন করা হয়, যা রেলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিবহন। পরে ইঞ্জিন-সংকটের কারণে রেলপথে পরিবহনের হার কমতে থাকে। পরিচালন কমিয়ে ও রেক বাড়িয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি কনটেইনার পরিবহন সম্ভব বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এস/০১:৫৫/২৩ মার্চ

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে