Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (47 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষে আহত ৬৫

কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষে আহত ৬৫

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ মার্চ- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথম ধাপের ১০ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল করার ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যার দিকে পৃথক সংঘর্ষে আহত হন আরও ২৫ জন। ৩ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউপির খাসমহল বালুচর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুর রশীদ ও মোসলেহউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পুলিশের ৩ সদস্যসহ ১৩ জন আহত হন।

এদিকে একই ইউপির দক্ষিণপাড়া খাসমহল বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা একটার দিকে আবারও ওই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৪-১৫টি রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সংঘর্ষে আহত হন ১৩ জন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বেলা একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এখানে উৎপল নামে একজনকে পুলিশ আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম আবু সাইদ তাঁকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। সকালে সাড়ে আটটার দিকে রশুনিয়া ইউপির রশুনিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল হোসেনের সমর্থকেরা বিএনপির প্রার্থী আবদুল খালেক শিকদারের ওপর হামলা করেন। হামলার শিকার খালেক শিকদারের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারী রশুনিয়া ইউপির আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেনের ভাই মামুন হোসেন চোকদারকে পুলিশ আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম শাহিনা পারভিন তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। একই ইউপির ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়-সংলগ্ন কেন্দ্রে মোরগ মার্কার নুরুল হক ও টিউবওয়েল মার্কার ইলিয়াস মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুজন আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক হোসেন জখম হন।

এ ছাড়া রশুনিয়া দানিয়াপাড়া বড় আখড়া কেন্দ্র, মালখানগর উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাত-আটজন আহত হয়েছেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা দুপুর ১২টার পরে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ’ বেলা আড়াইটার দিকে সিরাজদিখানের সমবায় মার্কেট এলাকায় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার মধ্যপাড়া, বয়রাগাদি ও বালুচর ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে লতব্দি ইউপির রামানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাসানচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিন ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও র্যা ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় র্যা ব ও পুলিশের সদস্যসহ ২৫ জন আহত হন। পুলিশ ও র্যা ব সূত্রে জানা গেছে, ৬ নম্বর রামানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গণনা শেষ হলে মোরগ, আপেল ও তালা মার্কার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যা ব শটগানের ১৫টি গুলি ছোড়ে। র্যা বের চার সদস্য, পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ ২০ জন আহত হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে নতুন ভাসানচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল ও মোরগ মার্কার ইউপি সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন পাঁচজন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম বলেন, বালুচর ইউপির দুটি কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এস/০১:২০/২৩ মার্চ

মুন্সিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে