Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (113 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২৩-২০১৬

পদত্যাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিস্মিত প্রশাসনের একাংশ

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য


পদত্যাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিস্মিত প্রশাসনের একাংশ

কলকাতা, ২৩ মার্চ- বাধ্যবাধকতা নেই কোনও। তবু নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে নয়! নবান্ন সূত্রের খবর, উচ্চ পর্যায়ের সরকারি তিনটি কমিটির শীর্ষপদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন মমতা। সেগুলির মধ্যে পুরস্কারপ্রদান এবং আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটি অন্যতম। অপরটি হল কয়েকটি বিষয়ের উপর নজরদারি সংক্রান্ত কমিটি। মমতার ইস্তফার ফলে কমিটিগুলির অস্তিত্ব থাকলেও সেগুলির কাজ আপাতত বন্ধই হয়ে গেল।

প্রশাসনের একাংশের অভিমত, সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির দায়িত্ব ‘লাভজনক পদ’ (অফিস অফ প্রফিট) হিসাবে চিহ্নিত নয়। তাই সেগুলি থেকে পদত্যাগ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে ওই পদে থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভোটে লড়তে পারতেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ঈষৎ বিস্মিত আধিকারিকদের অনেকে। তাঁদের মতে, বিতর্ক তৈরি হওয়ার কোনও সুযোগ রাখতে চাইছেন না বলেই মমতার ওই সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের একাংশের অবশ্য বক্তব্য, ওই সিদ্ধান্ত নিছকই ‘চমক’! কারণ, এর ফলে ফলিত স্তরে কোনও ইতরবিশেষ হবে না।

যে বিতর্ক মমতা এড়াতে চান বলে বলা হচ্ছে, তা কোন পর্যায়ের, তা নিয়েও বিভিন্ন মতামত রয়েছে নবান্নের অন্দরে। অনেকের মতে, পুরস্কারপ্রদান সংক্রান্ত কমিটি তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বঙ্গভূষণ, বঙ্গবিভূষণ, চলচ্চিত্র, সংগীত, টেলি-সহ রাজ্য সরকারের যতগুলি সম্মানপ্রদান কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলির প্রাপকের নাম চূড়ান্ত করে ওই কমিটি। গত প্রায় পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রান্ত এবং স্তরের মানুষ সরকারি সম্মানের আওতায় এসেছেন। বিরোধী পক্ষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিল্পীদেরও সম্মান জানিয়েছেন মমতা। ভবিষ্যতে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে পুরস্কারপ্রদানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছেন তিনি। সেদিক থেকে ভোট চলাকালীন ওই কমিটিতে থাকা মমতার পক্ষে ‘স্বস্তিদায়ক’ হতো না। কমিটির মাথায় থেকে গেলে বিরোধীরা সরব হলেও তাঁর অস্বস্তি বাড়বে। সে সব ভেবেচিন্তেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সংসদীয় রাজনীতি ভালই বোঝেন। তাই কখন কোন পদক্ষেপ করতে হবে, সে ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন তিনি।’’

কোন ক্ষেত্রে সরকার আর্থিক অনুদান বা সহায়তা দেবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতা কমিটি। সরকারি পরিভাষায় প্রধানত ‘রুগ্ন’ ক্ষেত্রগুলিকে চাঙ্গা করার জন্য ওই কমিটির সুপারিশে অর্থসাহায্য দেয় সরকার। আর্থিক দিক থেকে গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপগুলি করেছে, সেগুলির সমালোচনায় অনেক সময়েই সরব হয়েছে বিরোধীরা। ভোটের সময় মমতা বিরোধীদের সেই সুযোগ দিতে চান না বলেই প্রশাসনের অনুমান।

আধিকারিকদের অপর একাংশের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান অবস্থানের কারণে কিছুটা হলেও অখুশি মুখ্যমন্ত্রী। যেভাবে কমিশন নতুন নতুন পদক্ষেপ করছে, তা প্রশাসনকে চিন্তায় রেখেছে। সম্প্রতি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের জনসভায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণের নিশানায় এনেছিলেন নেত্রী। কমিশনের বাহিনী সংক্রান্ত পদক্ষেপের কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। মমতার কটাক্ষের সেই ভিডিও ফুটেজ জোগাড় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। তা পরীক্ষা করে দিল্লির নির্বাচন সদন কোনও পদক্ষেপ করে কি না, তা নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছে শাসকদল। ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ন্যূনতম ‘ফাঁক’ রাখতে চাইছেন না মমতা।   

মমতার পদত্যাগকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, ‘রিমুভ্যাল অফ ডিসকোয়ালিফিকেশন’ আইন অনুযায়ী লাভজনক পদের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে। পরিধি বাড়িয়ে অনেকগুলি পদকে এখন আর ‘লাভজনক’ হিসাবে গণ্য করা হয় না। তাই ভোটে লড়ার আগে কোনও মন্ত্রীকে সমস্ত পদ ছাড়তেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই।

এফ/১০:০২/২৩মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে