Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২২-২০১৬

চারদিকে পানি, তবু খেতে হয় কিনে

চারদিকে পানি, তবু খেতে হয় কিনে

সাতক্ষীরা, ২২ মার্চ- চারদিকে পানি, কিন্তু খাওয়ার পানি নেই। এমন অবস্থা সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে। সুপেয় পানির জন্য এলাকাভেদে তিন-চার কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। অনেককে বর্ষা ছাড়া সারা বছরই কিনে খেতে হয় পানি। আজ মঙ্গলবার বিশ্ব পানি দিবসের আগে সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

পানখালী গ্রামের প্রমথ মহালদার, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, তাঁরা দিনমজুর। তাঁদেরও বর্ষার সময় ছাড়া সারা বছরই পানি কিনে খেতে হয়। দূরত্বভেদে প্রতি কলস পানি ১০ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি ড্রাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা। মাসে পানির জন্য তাঁদের ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়, সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে বিগত বছরগুলোর মতো খাওয়ার পানির সরবরাহ নেই। মিষ্টি পানির উৎস পুকুরও শুকিয়ে গেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত জনপদে পানি পৌঁছে দেওয়ার পিএসএফের (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) মতো তিন শতাধিক প্রকল্প বছর না ঘুরতেই অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার পর থেকে এ সংকট কাটছে না।
হেঞ্চি গ্রামের জাহানারা খাতুন বলেন, ‘চারিদিক পানিতে একাকার, কিন্তু খাওয়ার উপযোগী এক ফোঁটা পানির জন্য তাঁদের ভিন গ্রামে ছুটতে হয়।’ একই এলাকার আমেনা বেগমের অসহায় আর্তি, ‘এ তো আর তেমন কিছু না, শুধু পানি। এক গ্লাস পানি যে ধরে (বেশি করে) খাব, সে উপায় নেই।’

বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বয়ারসিং গ্রামে পানি আনতে যাওয়া আমেনা বেগম কিংবা জাহানারা খাতুনের মতো আরও অনেকেই জানান, পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি আনতে তাঁদের প্রতিদিন ওই পথ পাড়ি দিতে হয়। পরিবারের সদস্যভেদে অনেকে দুবার পর্যন্ত একই পথ পাড়ি দেন। এত কষ্ট করে পানি আনার পর তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করতে গিয়েও ভাবতে হয় তাঁদের। কারণ, পানি শেষ হলে আবারও ছুটতে হবে। তাই পানি খেতেও তাঁরা মিতব্যয়ী।

মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক আশুতোষ রায়, কালিঞ্চি গ্রামের আশরাফ হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, এলাকার গভীর নলকূপের পানি খাওয়ার অনুপযোগী। হাঁসারচকসহ কয়েকটি গ্রামের পিএসএফগুলোও নষ্ট। এ কারণে দূরদূরান্ত থেকে পানি আনতে হয়। পানি আনতে গিয়ে নারীরা প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের লেখাপড়াও বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে তিন লাখ জনগোষ্ঠীর এ এলাকায় প্রতিদিন আনুমানিক সাড়ে ১৭ লাখ লিটার খাবার পানির চাহিদা রয়েছে। গভীর ও অগভীর নলকূপে অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ৫১ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা নানা উপায়ে বাকি ৪৯ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খাওয়ার পানির সংকট দূরীকরণে আগামী বছর থেকে সরকারি জলাধারগুলো ইজারা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে মিষ্টি পানির উৎস পুকুর পুনঃখনন, নতুন পিএসএফ নির্মাণসহ নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এস/১৩:৩৫/২২ মার্চ

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে