Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২২-২০১৬

ভোট দেওয়া নিয়ে যত শঙ্কা

অরূপ দত্ত


ভোট দেওয়া নিয়ে যত শঙ্কা

ঝালকাঠি, ২২ মার্চ- গত রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। ঢাকা-ঝালকাঠি নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-৬ সদরঘাটে ভেড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভরে গেল। কেবিন খালি নেই। ডেক তো ভরেছেই, কেবিনের সামনের জায়গাও খালি নেই। রাত আটটার দিকে ছাড়ল লঞ্চ। সদরঘাট ছাড়ার পর ফতুল্লা ঘাট থেকেও উঠল আরও প্রায় ৫০০ যাত্রী।

এত যাত্রী কেন? সামনে তো কোনো উৎসব নেই। পরে জানা গেল, ঝালকাঠির চার উপজেলায় প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু ভোটারদের অনেকেরই শঙ্কা, শেষ পর্যন্ত তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে।

আলাপ হলো নলছিটি উপজেলার কুশংগল ইউনিয়নের শামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না বুঝতে পারছি না। আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপিকে নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে শুনেছি। তারপরও যাচ্ছি, যদি ভোট দিতে পারি।’

শামসুল আলমের মতো আরও ভোটার পাওয়া গেল ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, কাঠালিয়া ও নলছিটি উপজেলার। প্রায় সবাই বললেন, ভোট হলেই তাঁরা বাড়ি যান, ভোট দিতে পারেন আর না পারেন।

ঝালকাঠি পৌঁছে গতকাল সোমবার বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। সদরের কালীবাড়ি রোডের একটি মুঠোফোন কেন্দ্রে পাওয়া গেল পাঁচজন ভোটারকে। আজ তাঁরা ভোট দিতে যাবেন কি না—এ প্রশ্নে একজন বললেন, ভোটের ফল কী হবে বোঝাই যাচ্ছে। তারপরও যাবেন, তাঁর ভাষায়, তামাশা দেখতে।
অপর এক ভোটার বললেন, এখানে সদরের কাউড়া ইউনিয়নে তাঁর ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আপন দুই ভাই। ভোট দিতে নয়, তাঁদের কাণ্ড দেখতে যাবেন তিনি। অপর তিন ভোটার সকালে ভোট দিতে যাবেন না, পরিস্থিতি বুঝে যাবেন। যদিও ততক্ষণে হয়তো তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে যাবে, যেমনটা হয়েছে রোববারের পৌরসভা নির্বাচনে।

জাল ভোটের সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে পোস্ট অফিস রোডে সাধনার মোড়ে মা-মণি হোটেলেও। দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন চাকরিজীবী আছির উদ্দিন। তিনি বলেন, গত রোববার সদর পৌরসভা নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে কেন্দ্রে গেলে সরকারি দলের ছেলেরা বলেছে, তাদের প্রার্থীদের ভোট না দিলে কষ্ট করে ভোট দেওয়ার দরকার নেই। তারাই দিয়ে দেবে। এ জন্য তিনি আর ভোট দিতে যাননি। কালও (আজ) ভোট দিতে যাবেন না।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় ফল বিক্রি করছিলেন আবদুস সাত্তার। তাঁর একজন পছন্দের প্রার্থী আছেন, তাঁকে ভোট দিতে যাবেন। তবে গণ্ডগোল হলে তাঁর প্রার্থী জিতবেন না, এটা তিনি জানেন।

ঝালকাঠির চার উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নে ভোট হবে। ২৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৯টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫১টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণের মধ্যে ২৫টি নলছিটি উপজেলায়, ১৬টি রাজাপুরে ও ১০টি কাঠালিয়ায়। নলছিটির সিদ্ধকাঠি ও দপদপিয়া ছাড়া ২৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী গতকাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। নলছিটি নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দুপুরে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব কেন্দ্রই ভালো দেখছি। থানা কেন এত কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে, বোঝা যাচ্ছে না। তবে একটি কেন্দ্রে সমস্যা হলে অন্যগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, এটা বুঝি।’ ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা সাধারণ সব কেন্দ্রেই সামর্থ্যমতো গুরুত্ব দেওয়া হবে। যদিও ফোর্সের স্বল্পতা আছে।

গতকালও প্রচারণা, টাকা বিলি: ৩৬ ঘণ্টা আগে রোববার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনের প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ঝালকাঠিতে প্রচারণা থেমে নেই। ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজাপুর সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজিবুল হককে গতকাল বেলা দেড়টার দিকে রাজাপুর বাইপাস মোড়ে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। মাইক্রোবাসে লোকজন নিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। জানতে চাইলে মজিবুল হক বলেন, পোলিং কেন্দ্র দেখতে বেরিয়েছেন।

ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মাকসুদ আলীর সমর্থক রাসেল স্বীকার করেন, ভোটারদের তাঁরা উৎসাহিত করছেন। কথা হয় রাজাপুরের আঙ্গারিয়া গ্রামের ফুলবানুর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাড়ির লোকদের ভোট দিতে নিয়ে যেতে তাঁকে খরচ দেওয়া হয়েছে। ওই গ্রামের আরও কয়েকজন বলেন, তাঁদেরও ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী জয়ী হলে আরও দেওয়া হবে।

রাজাপুর সদর, মঠবাড়ী, সুক্তাগড়, সাতুরিয়া এলাকায়ও বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন গতকালও বাড়ি বাড়ি গেছেন বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ভবানী সরকার বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনি পাননি।

এস/১৩:১৫/২২ মার্চ

ঝালকাঠি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে