Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২২-২০১৬

ভোলায় আতঙ্ক ও বর্জন

মোশতাক আহমেদ ও নেয়ামত উল্যাহ


ভোলায় আতঙ্ক ও বর্জন

ঢাকা, ২২ মার্চ- ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের রাঢ়িরহাটে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন। পরিচয় দিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গ তুললে হারুনুর রশীদ নামে একজন জানালেন, তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করেন। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় তাঁর সামনে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে এখন তিনি ভোট দিতে যাবেন না বলে মনস্থির করেছেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে মোটরসাইকেলে করে একদল লোক এসে অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাইছুল আলমের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেন। এ সময় আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষকেও মারধর করেন। পরে জানা যায়, হামলাকারীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী। এ রকম পরিস্থিতিতে বোঝাই যাচ্ছে ভোট কী হবে। তাই ভোট না দিতে মনস্থির করেছেন তিনি।

রাঢ়িরহাটে থাকতেই খবর আসে এই ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী রাইছুল আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকায় যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া শিবপুর ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া।

এটি দ্বীপ জেলা ভোলার একটি ইউনিয়নের খণ্ডচিত্র। কয়েক দিন ধরে গোটা জেলায় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্বাচনী আমেজ ছিল না বললেই চলে। কারণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক হামলা, সংঘর্ষসহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় একজন মারা গেছেন, আরেকজনের হাতের কবজি কেটে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটার এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ তো আছেই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া বলেন, শেষ মুহূর্তে এসে তাঁদের দল মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল জোর করে জেতার পরিকল্পনা করছে।

তবে ক্ষমতাসীন দলের জেলা কমিটির সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বিএনপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, বিএনপি শুধু দল টিকিয়ে রাখতে নামকাওয়াস্তে প্রার্থী দিয়েছে, মাঠে নামেনি। এ ছাড়া উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীই হামলা করে তাঁদের প্রার্থীর দাঁত ভেঙে দিয়েছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার জেলার সাতটি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৩৯৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রায় সাড়ে তিন শ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। ৪১টি ইউনিয়নে নির্বাচনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আদালত ছয়টিতে নির্বাচন স্থগিত করেন।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। সব মিলিয়ে পুলিশের ২ হাজার ৪৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

এস/১৩:১৫/২২ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে