Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২২-২০১৬

শেলায় নৌ চলাচল বন্ধ, কোস্টার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

শেলায় নৌ চলাচল বন্ধ, কোস্টার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাট , ২২ মার্চ- সুন্দরবনের শেলা নদীতে কয়লাবোঝাই কোস্টার ডুবির ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বন বিভাগ।

এদিকে নতুন করে দুর্ঘটনা এড়াতে শেলা নদীতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

কোস্টারডুবির পর ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়নি। কবে নাগাদ শুরু করা যাবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা। 

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে শনিবার বিকালে সি হর্স-১ নামের নৌযানটির তলা ফেটে গেলে সেটি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শেলা নদীতে ডুবে যায়।

কোস্টার ডুবির পর রোববার রাতে জাহাজের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আর সোমবার সকালে শরণখোলা থানায় গিয়ে কোস্টারের মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেন চাঁদপাই রেঞ্জের ফরেস্টার সুলতান মাহমুদ।

শরণখোলার ওসি মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, “বন বিভাগের এ মামলায় নৌযানটির মালিক ও মাস্টারসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে।”

আসামিরা হলেন- কোস্টার সি হর্স-১ এর মালিক মনিরা কবির, কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হালিশহরের সমতা শিপিং ট্রেডার্সের মালিক মো. আজিজুর রহমান, ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন, কোস্টারের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, চালক ইসমাইল ফরাজী এবং সুকানি সাইদুল ইসলাম।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, “কয়লাবাহী কোস্টারডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের জলজপ্রাণী, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন জানান, নতুন করে দুর্ঘটনা এড়াতে সোমবার সকাল থেকে শেলা নদীতে সব ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শেলা নদীর হরিণটানার যে এলাকায় কোস্টার ডুবেছে, তার আশপাশে মার্কিং বয়া দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে আপাতত মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় গঠিত বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের দুটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কয়লার কারণে দূষণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবেন দুই কমিটির সদস্যরা।

ডুবে যাওয়া কোস্টারটি উদ্ধারে কবে নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে আশরাফ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে পানির গভীরতা ৩০ থেকে ৩২ ফুট। সাড়ে সাতশ মেট্রিক টন ওজনের সি হর্সে কয়লা রয়েছে ১ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন।

“খুলনা ও বরিশালে আমাদের যে উদ্ধার যান রয়েছে তার উত্তোলন ক্ষমতা মাত্র আড়াইশ মেট্রিক টন। সুতরাং কোস্টারটি উদ্ধার করতে সময় লাগবে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কোস্টারের মালিক পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।”

২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এই শেলা নদীতে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি ওয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে যায়। ওই সময় থেকে সুন্দরবনের এই নৌপথটিতে যান চলাচল বন্ধ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে।

এস/০১:২০/৪৫মার্চ

বাগেরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে