Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২১-২০১৬

খুলনা নগরে পদচারী–সেতুর অভাব

খুলনা নগরে পদচারী–সেতুর অভাব

খুলনা, ২১ মার্চ- স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন সুমাইয়া ইসলাম। একের পর এক গাড়ি ধেয়ে আসায় পারছিলেন না। এক পা এগোচ্ছেন, পরক্ষণেই আবার পিছিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই তড়িঘড়ি করে গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হলেন মা ও মেয়ে।

১৫ মার্চ বেলা একটার দিকে এ দৃশ্য দেখা যায় খুলনার ডাকবাংলা মোড় এলাকায় যশোর রোডে।

কেন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন রাস্তা পার হতে ভীষণ ভয়ে থাকি। তবু পার হতে হয়। এখানে একটি ফুটওভারব্রিজ (পদচারী-সেতু) থাকা উচিত ছিল। খুলনার মতো এত বড় শহরে একটা ফুটওভারব্রিজ নেই, এটা ভাবাই যায় না!’

একই দিন বেলা দুইটার দিকে নগরের ফুলবাড়ী গেট রেলক্রসিং এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রেজওয়ান আরেফিন জানায়, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাদের রাস্তা পার হতে হয়। একটা ওভারপাস বা ফুটওভারব্রিজ থাকলে তারা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারত।

১৮৮৪ সালে খুলনা পৌরসভা হওয়ার ১০০ বছর পর এটি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে উন্নীত হয়। ১৯৯০ সালে উন্নীত হয় সিটি করপোরেশনে। এরপর দুই যুগের বেশি সময় পার হলেও ১৫ লাখ মানুষের এই নগরে কোথাও নির্মিত হয়নি একটি পদচারী-সেতু।

ব্যস্ত এই নগরে আছে ৩৬টি মোড় এবং নগরের মধ্য দিয়ে গেছে একটি মহাসড়ক। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব মোড় ও মহাসড়ক পার হয় নগরবাসী। বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক ও থ্রিহুইলার চলায় এসব মোড়ে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটেও গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রেলক্রসিংয়ে পদচারী-সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তা ওই পর্যন্তই। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান বলেন, সেতু, কালভার্ট বা পদচারী-সেতু উন্নয়ন বাজেট থেকে করা হয়। কিন্তু যে বরাদ্দ আসে, তাতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ-উজ জামান বলেন, প্রতিবছর সিটি করপোরেশনের বাজেটে পদচারী-সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয় না। সবার সুবিধার্থে খুলনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে দ্রুততম সময়ে পদচারী-সেতু করা উচিত।

সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু তার অনুমোদন মেলেনি। তা ছাড়া পদচারী-সেতু নির্মাণের জন্য কোনো ধরনের সমীক্ষা বা জরিপও করপোরেশনে নেই। তবে জোড়া গেট, নতুন রাস্তা, ফুলবাড়ী গেট, ময়লাপোতা, ডাকবাংলা, শিববাড়ী, নিউমার্কেট, দৌলতপুরসহ ১০টি জায়গায় পদচারী-সেতু এবং ফুলবাড়ী গেট ও জোড়াগেট রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস বানানোর জন্য একটি দাতা সংস্থার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার বলেন, আগে খুলনা শহরে পদচারী-সেতু দরকার ছিল না। ইদানীং যানজট ও ঝুঁকি বেড়েছে। অন্তত ডাকবাংলা, ফেরিঘাট ও ফুলবাড়ী গেট এলাকায় পদচারী-সেতু দরকার। তিনি বলেন, শহরের ২৬টি মোড় উন্নয়নে কাজ করছে জার্মান ফিন্যান্সিয়াল কো-অপারেশন (কেএফডব্লিউ)। তাদের কাছে ১০টি মোড়ে পদচারী-সেতু ও দুটি রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে