Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২১-২০১৬

নতুনভাবে শাড়ির ফ্যাশন আনলেন মনীশ মালহোত্রা

নতুনভাবে শাড়ির ফ্যাশন আনলেন মনীশ মালহোত্রা

মুম্বাই এর অন্যতম একটি পোশাকের দোকানের লম্বা একটি টেবিল জুড়ে রয়েছে মনীশ মালহোত্রার নতুন ‘রিগাল থ্রেডস’ এর শাড়ি সংগ্রহ। ফ্যাক্টরি থেকে সম্প্রতি এই দোকানে এসেছে এই কালেকশন। দোকানে আসার আগেই এই ফ্যাশন ডিজাইনারের দল এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এর সূক্ষ্ম কাপড়গুলো আয়রন করে দিয়েছে।

ভারতের বিখ্যাত এই ডিজাইনার বলেন, ‘এটার সবটুকুই শুধু নিয়ম ভঙ্গের জন্য।’

এই ডিজাইনার ভারতের প্রথম সারির মডেলদের স্টাইল তৈরির জন্য বিখ্যাত। তার তৈরি ডিজাইন পরেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং সোনাম কাপুর সহ বড় মাপের অভিনেত্রীরা। ভারতের ঐতিহ্যগত পোশাককে আরও আধুনিক করেছেন এই ডিজাইনার। শাড়ীর সাথে স্মার্ট শার্টের যুগল তৈরি এবং গার্মেন্টসকে আরও মানানসই রূপে তৈরি করে তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধশালী করেছেন তিনি।

‘রিগাল থ্রেডস’-এ তিনি ঐতিহ্যগত বেনারসির বুননকে আরও উন্নত করেছেন যা এসেছে মূলত উত্তর প্রদেশ থেকে।

ভারতের সবচেয়ে সুন্দর শাড়ী এবং ব্রকেডের জন্য বিখ্যাত এই ডিজাইনার তার নতুন সংগ্রহে আরও নিয়ে এসেছেন গাঢ়, সোনালী ফুলেল ও পেইসলি প্রিন্ট, ওয়েস্টার্ন চেক ও স্ট্রাইপ্স যা ফুটে উঠেছে অভারতীয় গ্রে এবং কালো রঙে। আর এর ফলাফল, পশ্চিমা ফ্যাশনের সাথে সাক্ষাৎ প্রাচীন স্টাইল এবং ঐতিহ্য মিশেছে আধুনিকতার সঙ্গে।
মনীশ বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত ফ্যাশনে আবারও শাড়ি চলে এসেছে, ঠিক যেভাবে এর প্রয়োজন ছিল।’
১৯৯৯ সালের শেষের দিকে ভারতের একজন লাক্সারি ফ্যাশন পরামর্শক গৌরভ ভাটিয়া বলেন, ‘শাড়ির পরিবর্তে ‘ইন্দো-ওয়েস্টার্ন’ ওয়্যার ধীরে ধীরে যায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশনে, যাতে রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাজুয়্যালনেস এবং গ্রহণযোগ্য আধুনিকতা, সাথে রয়েছে কুর্তি এবং চুরিদার।’

সেই সময়ে ভারতে কিছু ব্র্যান্ড আসে যেমনঃ ‘ম্যাঙ্গো’, ‘মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার’ এবং ‘জারা’ যেগুলো ভারতের শহরের প্রধান জায়গা গুলোতে ব্যবসা শুরু করে এবং ওয়েস্টার্ন পোশাককে আরও সুলভ ও সাশ্রয়ীমূল্যের মধ্যে নিয়ে আসে।

‘ভারতীয় পোষাকের মধ্যে এক প্রকার দেশপ্রেমের প্লট তৈরির মাধ্যমে ভারতীয় ভোক্তাদের পুনরায় শাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।’ বলেন ভাটিয়া। তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভারতীয়রা দেশিয় পোশাক পরে বেশ গর্ববোধ করে। যেই শাড়ি কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যাওয়ায় ভারতের শহুরে নারীরা ওয়েস্টার্ন ওয়্যারের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল – সেই শাড়ি ফিরে এসেছে। এটি সংস্কৃতির জন্য অপমান ছিল। এখন বেশ ভাল অবস্থানে চলে এসেছে শাড়ি।’

মালহোত্রার এই সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য ডিজাইনারদের কাজের জন্য ভারতীয়রা শাড়ির শিকড়কে আবারও শক্ত করে ধরতে পেরেছে।

মনীশ মালহোত্রা অবশ্যই এমন একজন মানুষ যিনি ফ্যাশনে সামাজিক মাধ্যমের ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ৫০ বছর বয়সী এই ডিজাইনারের ইনস্টাগ্রামে ৭১৪,০০০ এর বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন এই প্ল্যাটফর্মটি শাড়ি বাজারে ঐতিহ্যগত কারুকর্ম ফুটিয়ে তোলার জন্য জ্বালানি স্বরূপ।

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমি সামাজিক মাধ্যমকে শ্রদ্ধা করি। এখানে শিল্প, কারুশিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য নিয়ে অনেক সচেতনতা তৈরি করা যায়।‘

এই মাসে তিনি বলিউড সুপারস্টার শিল্পা শেঠির একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে তিনি ‘রিগাল থ্রেডস’ কালেকশনের একটি শাড়ি পরেছিলেন এবং এতে ইতিমধ্যে ১৭ হাজারের উপরে লাইক এসেছে।

বিভিন্ন ডিজাইনাররা হ্যান্ডলুম এবং টেক্সটাইল নিয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় কাজ করে যাচ্ছেন যা বেশ উচ্ছ্বাস সৃষ্টিকারী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- ফ্যাশনে ফিরেছে শাড়ি।

আর/১৮:৩০/২১ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে