Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২১-২০১৬

চুরির টাকার অভয়াশ্রম ফিলিপাইনের ক্যাসিনো

চুরির টাকার অভয়াশ্রম ফিলিপাইনের ক্যাসিনো

ম্যানিলা, ২১ মার্চ- চুরি করা ও অবৈধ অর্থের লেনদেনের স্বর্গরাজ্য ফিলিপাইন। কারণ দেশটির ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) খাতকে বলা হচ্ছে অর্থ পাচারের ব্ল্যাকহোল, যেখানে অর্থ ঢুকলে আর পাওয়া যায় না। ফলে কালো টাকার লেনদেনকারীদের আকর্ষণের জায়গা ফিলিপাইনের ক্যাসিনো।

এই সুযোগ করে দিচ্ছে  ফিলিপাইনের আইন।  ক্যাসিনোতে জুয়ায় জেতা অর্থ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্স দিলে তা বৈধ আয় বলে বিবেচিত হয়। আর দেশটিতে ক্যাসিনো মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় না পড়ায় পাচার করা অর্থও সেখানে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বৈধতা পেয়ে যায়। এ কারণে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন দেয়ার প্রয়োজন হয় না ক্যাসিনোগুলোর।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ফিলিপাইনের অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রসঙ্গ। সেখানকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কঠোর সিক্রেসি আইন, আইনের ফাঁকফোঁকর, ক্যাসিনো ব্যবসা এবং সেই ব্যবসা অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের আওতামুক্ত থাকার কারণে এভাবে অবৈধ অর্থের প্রবাহ সম্ভব হয়ে উঠেছে দেশটিতে।

গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক সিক্রেসি আইন রয়েছে ফিলিপাইনে। অথচ দেশটিতে যে মানি লন্ডারিং আইন রয়েছে, তা ক্যাসিনোগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সিনেটের ‘ব্লু রিবন’ তদন্ত দলের প্রধান সিনেটর সার্জিও ওসমেনা যেমন বলেন, “অবৈধ অর্থের জন্য ফিলিপাইন খুবই আকর্ষণীয়। কারণ আমাদের আইনের মধ্যে অনেক বেশি ফাঁক-ফোঁকর রয়েছে। এখানে অর্থপাচার করাটা খুবই সহজ।”

সিনেটর ওসমেনা আরও বলেন, এখানকার ক্যাসিনো একটি ব্ল্যাক হোল। একবার সেখানে টাকা চলে গেলে তা আর ফেরত পাওয়া যায় না। ফিলিপাইনের আইন সরকারের চেয়ে অপরাধীদের বেশি রক্ষা করে।

ফিলিপাইনের ক্যাসিনো শিল্প ক্রমেই বাড়ছে। আর অ্যান্টি মানি লন্ডারিংয়ের বেশির ভাগ নিয়মকানুন থেকেই এ ক্যাসিনো শিল্পকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মাকাও ও এশিয়ার অন্যান্য জুয়া হাবগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো খাত। এ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগকে ব্যাপক মাত্রায় আকৃষ্ট করতে বেশ সফল হয়েছে দেশটি।

ম্যানিলার উপকণ্ঠে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনটি বড় ক্যাসিনো হোটেল খোলা হয়েছে। প্রতিটি হোটেলের জন্য সর্বনিম্ন ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। নতুন এসব ক্যাসিনো কিছু ভিআইপি জুয়াড়িকে প্রলুব্ধ করতে সাহায্য করছে।  চীন থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত জুয়া রাজস্ব ক্রমেই বাড়ছে। গত বছর ফিলিপাইনের জুয়া রাজস্ব ছিল প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার। এ তুলনায় গত বছর মাকাওয়ের জুয়া রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন এবং সিঙ্গাপুরে ৫ বিলিয়ন ডলার।

এফ/১২:২৭/২১মার্চ

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে