Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২০-২০১৬

‘শেষ অর্থবছরে পাচার হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা’

‘শেষ অর্থবছরে পাচার হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা’

ঢাকা, ২০ মার্চ- ‘শেষ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ৯০০ কোটি ডলার বা ৭২ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে) বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের সমান।’

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান অর্থনীতিবিদরা।

‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভাটি রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম ও অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

আইসিসি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্যানেল আলোচক ছিলেন- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান, ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেস্ফর্দ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নাসিম মনজুর, ওয়াল্ড ব্যাংক গ্রুপ আইএফসি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাসরুর রিয়াজ, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’র (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফা কে মজুরি প্রমুখ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় অর্থ পাচার হয়ে যাওয়া। এ বিষয়ে শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সর্বশেষ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৯০০ কোটি ডলার বা ৭২ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যা জিডিপির প্র্রায় ৬ শতাংশের সমান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেইন।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, সকল দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জন করতে হলে প্রতিবছর বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রয়োজন ৫ থকে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে ৫ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে হবে ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। আর বৈশিক বিনিয়োগ ৭ ট্রিলিয়ন হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে হবে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আছে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৫ ট্রিলিয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে ৫ হাজার কোটি ডলার এবং ৭ ট্রিলিয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ঘাটতি আছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনে অর্থায়নকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়।

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অর্থবছর ২০১৫-২৪ সময়ে ব্যবসার মুনাফার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হারে হতে হবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূল যে চ্যালেঞ্জ আছে তা হলো জেগে উঠা। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই ভালো। সপ্তম-পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছি। যুক্তরাজ্যে আমাদের রফতানি কমে যাওয়া শংঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রতিনিয়িত যুক্তরাজ্যে আমাদের রফতানি বেড়েছে। শেষ বছরে যুক্তরাজ্যে থেকে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৫৭০ কোটি ডলার রফতানি আয় হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দক্ষতা আমাদের বড় সমস্যা। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার কারণে বাংলাদেশে ২ হাজার কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য অব্যবহৃত রয়েছ। আর এ অর্থ ব্যবহারই করতে পারিনি।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো সমস্যা নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হলো দুর্নীতি। এ বিষয়টি কেউ বলছেন না।

আর/১৮:২৯/২০ মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে