Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২০-২০১৬

‘আসল-নকল’ বিএনপির দ্বন্দ্বে খালেদা

‘আসল-নকল’ বিএনপির দ্বন্দ্বে খালেদা

ঢাকা, ২০ মার্চ- বিএনপিকে ভাঙতে অনেক খেলা চলছে এমন অভিযোগ করে ‘আসল বিএনপি’র কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বললেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে দেয়া সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

কাউন্সিলরদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা দেখেছিলেন, কয়েকদিন আগে পার্টি অফিসের (নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়) সামনে কী অবস্থা করেছিল তারা (আসল বিএনপির লোকজন)। ওরা নাকি আসল বিএনপি ছিল। ওরা আসল হলে আমরা কি তাহলে নকল? আমরা সবাই নকল বিএনপি? কিন্তু ওই নকল বিএনপির কাছেই ওরা জনগণ দ্বারা যেভাবে শায়েস্তা হয়েছে, তাতে তারা বুঝতে পেরেছে-আসল কোনটা আর নকল কোনটা?’

নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভাঙতে এখনো অনেক খেলা চলছে। তাই আপনাদের কারো কাছে যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইনফরমেশন (তথ্য) থাকে, তাহলে আমাদের অফিসে আসবেন, আমাকে বলবেন।’

প্রসঙ্গত, বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নেই-এমন অভিযোগ করে তা প্রতিষ্ঠায় দলীয় বিপ্লবের কথা বলে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হন দলটির পুনর্গঠনের মুখপাত্র দাবিদার কামরুল হাসান নাসিম। এ বিপ্লব যেকোনো সময় ঘটবে বলেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে জানান তিনি। দলীয় বিপ্লবের অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত’ বসান নাসিম। ওই আদালত থেকে বিএনপির গঠনতন্ত্র স্থগিত এবং নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত’ বসানোর রায় দেয়া হয়।  নাসিমের অনুসারী নেতা-কর্মীরা এ রায় দেন।

ওই রায় অনুযায়ী, দুইবার চেষ্টা করেও দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত বসাতে ব্যর্থ হন নাসিম। প্রথমবার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাতে তার অনুসারিরা ব্যাপক মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে নয়াপল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ৪টি সাউন্ডবক্সসহ একটি পিকঅ্যাপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মিরা।

এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষিত হয়।  কামরুল হাসান নাসিমও তখন নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালতে’ আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে সারা দেশে দলটির বিগত ২০ বছরের কাউন্সিলরদের কাছে চিঠি পাঠান। কিন্তু নাসিমের সে আমন্ত্রণে কাউন্সিলরা তেমন সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।   

এদিকে, বিএনপির কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাহার আলী প্রধান বলেন, পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে (নয়াপল্টন) দূর-দুরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা গিয়ে একশটি কথা বললে একটির উত্তর দেয়া হয়। এছাড়া নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহারও করা হয় না। ফোন করা হলেও সেটি কেউ রিসিভ করেন না। দলকে সুসংগঠিত করতে এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনের বেলায় সাধারণত দলটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু অবস্থান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, গুলশান কার্যালয় কেন্দ্রিক ‘একটি বলয়’ দ্বারা খালেদা জিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছেন। সারা দেশ থেকে নেতারা আসলেও ওই বলয়ের কারণে  দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তৃণমূল থেকে ঢাকায় এসে অবস্থান করার পরও নেতাদের অনেকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। ফলে কাউন্সিল থেকে খালেদা জিয়া তৃণমূলের নেতাদের তার কার্যালয়ে আসার আমন্ত্রণ জানালেও সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। নেতা-কর্মীদের দাবি, দলকে সুসংগঠিত করতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে ওই বলয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এফ/১১:৫৫/২০মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে