Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২০-২০১৬

হাইকোর্টের আদেশের আট মাসেও দখলমুক্ত হয়নি করতোয়া

আনোয়ার পারভেজ


হাইকোর্টের আদেশের আট মাসেও দখলমুক্ত হয়নি করতোয়া

বগুড়া, ২০ মার্চ- হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার আট মাস পরও বগুড়ায় করতোয়া নদী অবৈধ দখলমুক্ত হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন দখলদারের তালিকা তৈরি করা হলেও জেলা প্রশাসন আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ দখলদারের তালিকা তৈরি করতে পারেনি। এ ছাড়া, নদীদূষণ বন্ধে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে রিট করা হয়। বেলার স্থানীয় কর্মীরা জানান, ১৯৮৭ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া গাইবান্ধার খুলশীতে জলকপাট নির্মাণের মাধ্যমে করতোয়াকে কার্যত মেরে ফেলে পাউবো। এ ছাড়া অবৈধ দখল আর দূষণে বিপন্ন এককালের খরস্রোতা নদী করতোয়া। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও দূষণমুক্ত এবং খুলশীতে পাউবোর জলকপাট অপসারণ করতে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি বেলার পক্ষ থেকে প্রথমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব চাওয়া হলেও তাতে কেউ সাড়া না দেওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হয়।

আবেদনের শুনানি শেষে গত বছরের ২২ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ করতোয়া নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। নদীতে সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইকোর্ট বগুড়া পৌরসভাকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আদালত গাইবান্ধার কাটাখালির খুলশীতে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত জলকপাটের পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বলা হয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট ২১ বিবাদীর বিরুদ্ধে রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, বগুড়া ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাউবোর মহাপরিচালক এবং বগুড়ার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও বগুড়ার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছেন।
বেলার স্থানীয় কর্মী ও নদীর এ অংশের আশপাশে যাঁরা থাকেন তাঁরা বলছেন, আদালত ১১৬ কিলোমিটার অংশে নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টিকারী অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেও জেলা প্রশাসন শুধু শহরের এসপি ঘাট থেকে চেলোপাড়া পর্যন্ত করতোয়ার এক কিলোমিটার অংশের তালিকা করেছে। প্রশাসন মাত্র ২৭ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। যাতে তাঁরা রাজনৈতিক নেতাদের আড়াল করে ফেলতে পারেন। অথচ বগুড়া পৌরসভায় দখলদারের সংখ্যা কয়েক শ।

জেলা প্রশাসনের ২৭ দখলদারের মধ্যে রয়েছে বগুড়ার বেসরকারি সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (বিসিএল) সুপার মার্কেট, বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতি, শংকর প্রসাদ, আরাবিয়াতুল সালাফিয়া ওয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ মোবারক ফতেহ আলী, শ্রীশ্রী জিউ বিগ্রহ গোপিনাথ মন্দির, আবুল কালাম আজাদ, খয়রতজ্জামান, রাধা প্রসাদ, আবদুস সোবহান, কানাইলাল বসাক, এ কে এম ফজলুর রহমান, মুক্তার হোসেন, প্রদীপ কুমার রায়, আবদুল জলিল, সাইফুল ইসলাম, লাভলী বেগম, আবুল হোসেন, বজলার রহমান, কাশেম আলী, গোলাম মোস্তফা, কৃষ্ণা সাহা, আরতি রানী, আনন্দ কুমার, সঞ্জীব কুমার বিহানী, জোবাইদুল ইসলাম, মাজেদ হোসেন, মতিয়ার রহমান এবং ফরিদ উদ্দিন।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হায়াত-উদ-দোলা খান প্রথম আলোকে বলেন, চিহ্নিত ২৭ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলা নিষ্পত্তিও হয়েছে। গত বছরের ২৩ জুলাই ছয়জনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তহবিল সংকট ও ম্যাজিস্ট্রেট-স্বল্পতায় অন্যদের বিরুদ্ধে এত দিন অভিযান পরিচালনা করা যায়নি। খুব শিগগির উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সামির হোসেন বলেন, করতোয়া নদীর ঠেঙ্গামারা থেকে বেজোড়া ঘাট পর্যন্ত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা অনেক। অথচ প্রশাসন হাতেগোনা কয়েকজন দখলদার চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। এতে অন্যরা বৈধতা পাবে। প্রশাসনের উচিত হবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব দখলদার চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা।

এদিকে আদালতের নির্দেশের পরও করতোয়া নদীতে এখনো বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এবং কলকারখানা ও পৌরসভার নালার তরল বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে করতোয়ার বুকে। সম্প্রতি শহরের চেলোপাড়া শাহ্ ফতেহ আলী সেতু ও টিএমএসএস মহিলা মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাশে ময়লার ভাগাড়। সেখানে গন্ধে টেকা দায়।
বগুড়া পৌরসভার মেয়র এ কে এম মাহাবুবর রহমান দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী করতোয়া দূষণরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রুলে করতোয়ার ১১৬ কিলোমিটার পানিপ্রবাহ এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে পানির প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন আদেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে দূষণরোধে বগুড়া পৌরসভাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন আদালত। নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় বেলার পক্ষ থেকে আবারও আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এস/০৪:৪০/২০ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে