Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২০-২০১৬

পাবনায় গমে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ

পাবনায় গমে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ

পাবনা, ২০ মার্চ- পাবনার বেশ কিছু এলাকায় চলতি মৌসুমে গমে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফলে শিষে কালচে রং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে গমের দানা। ফলন বিপর্যয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, ‘রোগটির নাম ব্লাস্ট। বাংলাদেশে এবারই প্রথম এ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। চলতি মৌসুমে জেলার কিছু এলাকায় চাষিরা দেরিতে গম আবাদ শুরু করেছিলেন। এতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় রোগটি সংক্রমণ ঘটাতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে। এতে কী পরিমাণ ফলন কমবে, তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। পুরো গম ঘরে উঠলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে। তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা মাঠপর্যায়ে চাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।’ 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার নয়টি উপজেলায় গত মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছিল ৪৩ হাজার ৩২২ হেক্টর জমিতে। গম উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৪৫৮ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৩৯৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে, ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে সাঁথিয়ায় ৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর, আটঘরিয়ায় ৪ হাজার ৩৬৭ হেক্টর, সুজানগরে ৩ হাজার হেক্টর, বেড়ায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর, ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, ভাঙ্গুড়ায় ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ফরিদপুরে ২ হাজার ৫১০ হেক্টর ও চাটমোহরে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, গত মৌসুমে আবাদ ও লক্ষ্যমাত্র ঠিক ছিল। গমের ফলনও বাম্পার হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে মসলা ও তৈলজাত ফসল আবাদ বেড়ে যাওয়ায় গমের আবাদ কম হয়েছে। 

সদর ও আটঘরিয়া উপজেলার ১০ জন গমচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমে ফলন ভালো হলেও দাম কম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদ কমেছে। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে নতুন করে দেখা দিয়েছে রোগের সংক্রমণ। মাঠে ভালো গাছ দেখা গেলেও শিষ কালচে হয়ে গমের দানা নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাপকভাবে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কৃষক মাঠ থেকে গম কাটতেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অনেকেই চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 

আটঘরিয়া উপজেলার ছয়জন গমচাষি জানান, তাঁদের জানামতে রোগের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে আটঘরিয়া উপজেলায়। কিছু মাঠের পুরো গমই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পাকা গমও কাটছেন না চাষিরা। 

রামচন্দ্রপুর গ্রামের গমচাষি আবদুল হামিদ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। আশা ছিল আট-নয় মণ গম পাবেন। কিন্তু রোগের আক্রমণে পুরোটাই ভেস্তে গেছে। 

মনিরুজ্জামান নামে অপর এক গমচাষি বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছেন। ঋণ করে জমির পেছনে খরচ করেছেন প্রায় ২০ হাজার টাকা। গম উঠলে এই টাকা শোধ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোগের সংক্রমণে পুরো পাঁচ বিঘা জমির গম নষ্ট হয়ে গেছে। এখন গম কেটে ঘরে তোলার বাড়তি খরচ করতেও কষ্ট হচ্ছে তাঁর। কীভাবে দেনা শোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

এস/০৪:০০/২০ মার্চ

পাবনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে