Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২০-২০১৬

নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছের খামার

নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছের খামার

মৌলভীবাজার, ২০ মার্চ- মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকায় জুড়ী নদীর একাংশে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাছের খামার করেছেন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নয়াগ্রামের রফিক মিয়া সম্প্রতি জুড়ী নদীর বেশ কিছু জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করে মাছের খামার করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ ও নৌকা চলাচল ব্যাহত হবে। এ ছাড়া পানির স্রোতে নদীর তীরের জমি ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরেজমিনে ১১ মার্চ সকালের দিকে দেখা গেছে, পলিতে ভরাট হয়ে পড়ায় নদীটি নয়াগ্রাম এলাকায় ছোট খালের মতো হয়ে গেছে। এই অংশেরই বেশ কিছু জায়গায় মাটি ফেলে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতির বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে। নদীর পূর্ব পারে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম আমতৈল ও পশ্চিম বাছিরপুর গ্রাম এবং পশ্চিম পারে নয়াগ্রাম।

নদীর পারের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মতিন ও পশ্চিম বাছিরপুরের ফজলু মিয়া বলেন, নদীটি আরও পূর্ব দিকে (নয়াগ্রামের দিকে) ছিল। ভরাট হয়ে যাওয়ায় ছোট হয়ে গেছে। বাঁধের অনেক ভেতরে নদী ঢুকে পড়েছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে নয়াগ্রামের জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষায় এ নদী দিয়ে ইঞ্জিনচালিত বড় বড় নৌকা চলাচল করে। শুকনো মৌসুমে লোকজন নদীর পাড় দিয়ে চলাচল করেন। এখন নদীটি দখল হয়ে গেল। কারও প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। নদীটি দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা হোক, সেটাই আমরা চাই।’
রফিক মিয়া ও তাঁর ছেলে আরিফ হোসেন জানান, নদী ঘেঁষে তাঁদের আট বিঘা জমি আছে। সেখানে মাছের খামার করবেন তাঁরা। তাই, মাটি ফেলে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। নদী দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁরা জানান, তদন্তে এটা প্রমাণিত হলে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে। নদী ঠিক জায়গাতেই আছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার চান্দ আলী বেগ ও জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিব আহমদ ৯ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ ব্যাপারে ওই দুই কর্মকর্তা গত সোমবার ইউএনওর কাছে একটি প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নয়াগ্রাম মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের এসএ ১৫১১ ও ১১০৪ নম্বর দাগে নদীসদৃশ ভূমিতে আনুমানিক ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট চওড়া জায়গায় নয়াগ্রামের রফিক মিয়া মাটি ভরাট করে বাঁধ স্থাপন করেছেন। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত এবং নদীর বিপরীত পারে অবস্থিত আমতৈল মৌজায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ করে নদীসদৃশ ভূমি চিহ্নিত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম ইবনুল হাসান গত মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রতিবেদন পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এস/০৪:১০/২০ মার্চ

মৌলভীবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে