Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (256 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৯-২০১৬

এয়ারপোর্টে চকলেটের প্যাকেট হারালেও খুঁজে পাওয়া যাবে

এয়ারপোর্টে চকলেটের প্যাকেট হারালেও খুঁজে পাওয়া যাবে

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ২০১০ সালে গঠন করা হয় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। মাত্র কয়েক বছরে এ ব্যাটালিয়ন বন্দরের নিরাপত্তায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। বিমানবন্দর এলাকা ভিক্ষুক ও প্রতারকমুক্ত রেখে এপিবিএন ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসংখ্য হারানো সামগ্রী ফেরত দিয়ে সংস্থাটি যাত্রীদের বিশ্বাস এবং আস্থার পাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুলের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুনিফ আম্মার।

- বিমানবন্দরে এপিবিএন মূলত কোন ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে?

আলমগীর হোসেন শিমুল: এপিবিএন একটি বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান আইজিপির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি এলিট এবং প্যারামিলিটারি ফোর্স। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ফিজিক্যাল সিকিউরিটি দেওয়া এপিবিএনের উল্লেখযোগ্য কাজের অন্যতম। সে লক্ষ্যেই ২০১০ সালে এয়ারপোর্ট এপিবিএন গঠন করা হয়েছে। এখানে এপিবিএন তিন ধরনের নিরাপত্তা দিচ্ছে।

এক. ফিজিক্যাল সিকিউরিটি। এর আওতায় এয়ারপোর্টের রানওয়ে, অপারেশন টাওয়ার, রাডার স্টেশন, মার্কার, ভিওআর, লোকালাইজার, গ্লাইডপাথসহ সব ধরনের এয়ারক্রাফট এবং আমদানি-রপ্তানির পণ্য রয়েছে। পুরো স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো আমাদের প্রথম কাজ।

দুই. যাত্রী নিরাপত্তা। এ কাজের আওতায় রয়েছে যাত্রী হয়রানি ও গণউপদ্রব বন্ধ করা, টোকাই, ভিক্ষুক ও উদ্দেশ্যবিহীন মানুষের আনাগোনা ঠেকানো। এয়ারপোর্ট একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখানে অযথা মানুষের আসার কোনো দরকার নেই। তবুও অনেক ধরনের মানুষ অনেক অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এ এলাকায় প্রবেশ করতে চায়। তাদের প্রবেশ ঠেকানোও আমাদের কাজের আওতায় পড়ে।

তিন. জেনারেল পুলিশিং। উপরের দুইটি কাজের বাইরেও আমরা জেনারেল পুলিশিং করে থাকি। যা আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ। এর মধ্যে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কেউ বেরিয়ে যেতে চাইলে তাকে আটকানো, চোরাচালান বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া কিংবা এয়ারক্রাফট বা বন্দরে কেউ হট্টগোল করতে চাইলে তাকে নিবৃত করা ইত্যাদি। তাছাড়া যাত্রী সাধারণের লাগেজ কেটে চুরি বন্ধেও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

- তাহলে বিমানে ওঠার সময় যাত্রী ও তাদের লাগেজ তল্লাশির কাজগুলো কারা করে থাকেন?

আলমগীর হোসেন শিমুল: বিমানবন্দরের সিকিউরিটি দুই ধরনের। এক. কোর সিকিউরিটি, দুই. নন-কোর সিকিউরিটি। কোর সিকিউরিটির আওতায় আছে বিমানবন্দরের ফিজিক্যাল সিকিউরিটি, যাত্রী এবং তাদের সম্পদের নিরাপত্তা এবং জেনারেল পুলিশিং। এ কাজটি মূলত এয়ারপোর্ট এপিবিএন করে থাকে। আর অন্যটি হচ্ছে নন-কোর সিকিউরিটি, যার মধ্যে আছে স্ক্রিনিং এবং আনুষাঙ্গিক কাজ। যাত্রীর দেহ তল্লাশি ও লাগেজ চেক করা। উভয় সিকিউরিটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তি যাতে করে উড়োজাহাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ (Unlawful Interference) করতে না পারে। নন-কোর সিকিউরিটিও গূরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, যদিও এতে অস্ত্রের ব্যবহার নেই। অনেক দেশের এয়ারপোর্টে প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি দিয়ে এ কাজ করানো হয়। তবে এটা উর্দিবিহীন একটা নিরস্ত্র বেসামরিক দল। আমাদের এয়ারপোর্টে এ কাজ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি করে থাকে।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, তা হলো নন-কোর সিকিউরিটির কাজে কোনো ধরনের সশস্ত্র বা অন্য কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা কোর সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিতে হবে।

- কিন্তু অনেক দেশে তো এ কাজ পুলিশ করে থাকে?

আলমগীর হোসেন শিমুল: সেটা ঠিক। তবে সেসব পুলিশ অস্ত্রহীন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দিকে লক্ষ করলেই দেখবেন, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি নিরস্ত্র টিম সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটির কাজ করছে। আবার দুবাইতে দেখবেন, একটি তৃতীয় পক্ষ সিকিউরিটি টিম (আউটসোর্সিং কোম্পানি) দিয়ে এ কাজ করানো হচ্ছে। বাংলাদেশের সমস্যা হচ্ছে দুর্বল সংস্থাকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয় না। এ কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যার কাজ তাকে দিয়েই করানো উচিত।

- এ মুহূর্তে এয়ারপোর্টে বড় সমস্যা কোনটি?

আলমগীর হোসেন শিমুল: গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংই এখন শাহজালালের বড় সমস্যা। এটা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিমানের পূর্ণ সক্ষমতা নেই। ফলে লাগেজ পেতে যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। মূল কথা হলো- বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা চাহিদা অনুযায়ী বাড়েনি। আর এ প্রভাব এসে পড়ছে সবার ওপর। একসঙ্গে চারটির বেশি বিমান অবতরণ করলে বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নিযুক্ত শ্রমিকদের হিমশিম খেতে হয়। একজন যাত্রী যতক্ষণ টার্মিনাল থেকে বের হতে পারছেন না ততক্ষণ তার জন্য অপেক্ষমান আপনজন বাইরে দাঁড়ানো থাকেন। এতে বিমানবন্দরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। অনেক সময় এমনও দেখা গেছে আমাদের লোকজনকেও যাত্রীদের লাগেজ বেল্টে সরবরাহের কাজ করতে হচ্ছে।

- চোরাকারবারীদের ধরছেন কীভাবে?

আলমগীর হোসেন শিমুল: বিমানবন্দরের আভ্যন্তরীণ সব ধরনের তল্লাশীর দায়িত্ব ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের। ইমিগ্রেশনে মূলত যাত্রীদের ট্রাভেল ডকুমেন্টস চেক করে আর কাস্টমস করে বিভিন্ন ধরণের পণ্য সামগ্রী। অনেক সময় দেখা যায়, এই দুই ধাপকে ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীরা অবৈধ সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে আসে। যেহেতু পুরো এয়ারপোর্টে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে, তাই ওখানে ফাঁকি দিয়ে এলেও আমাদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়। আমরা এমন অবৈধ কারবারে জড়িতদের প্রায়শই ধরি এবং কাস্টমসে সোপর্দ করে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা করে থাকি। এভাবে গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার রাজস্ব আমরা সরকারকে দিতে পেরেছি। তাছাড়া আমাদের আভিযানিক তৎপরতায় যাত্রীদের দিক থেকে শুল্ক প্রদানের হার বেড়েছে। আর এই জন্যই আমরা এই ইউনিটকে একটি মোক্ষম বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে পারি।

- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

আলমগীর হোসেন শিমুল: একসময় বিমানবন্দর ছিল টোকাই, ভিক্ষুক, ধান্দাবাজ এবং প্রতারকদের নির্বিঘ্ন স্থান। তারা এয়ারপোর্টের পরিবেশ নষ্ট করত। বিমানবন্দরের ফুটপাথে হাঁটা যেত না এদের মল-মূত্রের কারণে। অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি, প্রতারক ও যাত্রী হয়রানকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে পুরো বিমানবন্দর জুড়ে আমাদের ৪০টি চেকপোস্ট আছে। পাশাপাশি পেট্রোল টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি তো রয়েছেই। ফলে এখন তাদের উৎপাত নেই বললেই চলে। তারপরেও মাঝে মধ্যে ঢোকার চেষ্টা চালায়, আমাদের হাতে আটকও হয়। নিয়মিত মামলা এবং মোবাইল কোর্টে সাজা পেয়ে দিনদিন তাদের সংখ্যা কমে আসছে।

- বিভিন্ন সময়ে যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী ফেরত দিয়ে আপনারা বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। কীভাবে করছেন এসব?

আলমগীর হোসেন শিমুল: হারিয়ে যাওয়া বস্তু আমাদের কাছে আমানত স্বরূপ এবং তা ফেরত দেয়া আমাদের কর্তব্য-কাজের অংশ। কিন্তু কোথায় হারালেন, সেটাও দেখার বিষয়। যদি আমাদের আওতার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু হারায়, তাহলে সেটা তো আমাদের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব না। অর্থাৎ বিমান কিংবা অন্য যেকোনো এয়ারলাইন্সের অধীনে কিছু হারালে তার দায়িত্ব ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগের। তবে অনেক সময় যাত্রীরা বেখেয়ালে কিংবা তাড়াহুড়ায় বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় অনেক কিছু ফেলে রেখে যান। আমাদের সদস্যরা সেগুলো উদ্ধার করেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো ফেরত দিচ্ছি। আগে এমন হারানো জিনিস যাত্রীরা আর খুঁজে পেতেন না। এখন আমরা সেগুলো ফের দেয়া নিশ্চিত করেছি। আমরা স্পষ্ট বলতে পারি- বিমানবন্দরের আমাদের আওতাধীন জায়গায় চকলেটের প্যাকেট হারালেও সেটা খুঁজে পাওয়া যাবে। এজন্য পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। কেউ কিছু হারালেই সেটা খুঁজে বের করে আনা খুবই সহজ। গত তিন বছরে আমরা সহস্রাধিক যাত্রীকে তাদের হারানো মাল ফেরত দিতে পেরেছি।

- আপনারা ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও সেবা দিচ্ছেন।

আলমগীর হোসেন শিমুল: ঠিক বলেছেন। আবুল বাশার আতিকুল ইসলাম নামে আমাদের এক সিনিয়র এএসপি এই পেজ খুলেন আজ থেকে চার বছর আগে। আমি যখন এখানে জয়েন করি, তখন এ পেজে লাইক ছিল মাত্র পাঁচশ। এখন লক্ষাধিক মানুষ এ পেইজের সঙ্গে যুক্ত। আমরা খেয়াল করলাম, অনেক মানুষ তথ্যের অভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। আমরা এ পেজে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দিতে শুরু করেছি। আমাদের ডিউটি এএসপির নাম্বারও এ পেজে দেয়া হয়েছে। যাতে করে তাৎক্ষণিকভাবে যে কোনো বিষয়ে সারা দুনিয়ার যে কোনো স্থান থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি এয়ারপোর্ট সম্পর্কিত বাছাইকৃত সংবাদগুলোও দেয়া হচ্ছে। ফলে এ পেজে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তাদেরকে সেবা প্রদানের হারও বাড়ছে।

- আপনাদের সামগ্রিক কাজে সিভিল এভিয়েশন থেকে কতখানি সহযোগিতা পাচ্ছেন?

আলমগীর হোসেন শিমুল: এ প্রশ্নের উত্তর খানিকটা জটিল। আমরা যাদের জন্য কাজ করছি অর্থাৎ বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান করছি, তারা আমাদের সদস্যদের থাকার জায়গাও করে দিতে পারেননি। আমাদের এ ব্যাটালিয়নে এক হাজার একশ সদস্য রয়েছে। সবাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এবং এর বাইরে আমাদের নিয়মিত কোনো কাজ নেই। অল্প কয়েকজন সদস্যদের শুধু থাকার ব্যবস্থা তারা করতে পেরেছেন, অথচ এই বিমানবন্দরের বেশিরভাগ জায়গা অব্যবহৃত আছে। আমাদের অনেক সদস্য গাদাগাদি করে এপিবিএন মসজিদেও থাকছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ফ্রি সার্ভিস দিচ্ছি, অথচ তারা আমাদের ফোর্সের থাকার ব্যবস্থাও করতে পারছেন না। এটা দুঃখজনক।

- আপনাদের জনবলে ঘাটতি আছে কোনো?

আলমগীর হোসেন শিমুল: ঘাটতি তো আছেই। সদস্যদের ন্যূনতম ডিউটি হচ্ছে দৈনিক ১২ ঘণ্টা। কাজের একটু প্রেসার থাকলেই ১৮ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। এতে করে একজন মানুষ তো পাগল হয়ে যাওয়ার জোগাড়।

ভারতের ইন্ধিরা গান্ধি বিমানবন্দরে ডিআইজির নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী অর্থাৎ সিআইএসএফ কাজ করছে। সারা ভারতের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দিচ্ছে ভারতীয় পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিট। অথচ আমাদের এখানে একজন এসপির নেতৃত্বে এক হাজার একশ লোক কাজ করছে। নিয়ম অনুযায়ী একজন এসপির দায়িত্বে সর্বোচ্চ সাতশ জনের এক ব্যাটালিয়ন থাকে। কিন্তু এখানে বেশি চাপ নিতে হচ্ছে। তবে এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বতন্ত্র ও প্রযুক্তি নির্ভর পূর্ণাঙ্গ এয়ারপোর্ট এপিবিএন গঠন করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

- সদস্যদের কাজে উৎসাহ বাড়াতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আলমগীর হোসেন শিমুল: এয়ারপোর্ট নিরাপত্তায় আমাদের বয়স খুব বেশি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে এয়ারপোর্টের মতো গুরুত্বপূরর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসাহ। আমরা সে আস্থা ধরে রাখার চেষ্টায় অবিচল। এজন্য আমাদের আইজিপি মহোদয়ও এখানে দক্ষ ও সৎ অফিসার নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট আছেন। তবে পাশাপাশি কাজে অবহেলা ও শৃঙ্খলা বহির্ভূত কাজে লিপ্ত থাকার জন্য আমরা শাস্তিও দিচ্ছি। এ যাবত বিভিন্ন দায়ে ৩৫ জনকে চাকরিচ্যুত করেছি। আবার পুরস্কৃতও করছি একইভাবে, কেউ যদি হাতেনাতে কোনো চোর ধরতে পারে তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছি। ভালো ভালো অপারেশন পরিচালনা করলে পুরস্কারের পরিমাণও বাড়াচ্ছি।

- এয়ারপোর্ট এপিবিএনকে কোন উচ্চতায় দেখতে চান?

আলমগীর হোসেন শিমুল: আমরা যখন এয়ারপোর্টে কাজ শুরু করি তখন শাহজালাল ছিল ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) রেটিং অনুযায়ী ৩য় শ্রেণীর বিমানবন্দর। এখন এটা দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। আমাদের স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যদি বিশ্বমানের হয়, তাহলে অচিরেই প্রথম শ্রেণীর এয়ারপোর্ট হিসেবে শাহজালালকে দেখা যাবে। তবে এজন্য প্রয়োজন থার্ড টার্মিনাল, মেট্রোরেল এবং এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগসহ গণপরিবহণ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক মান ও সিভিল সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা। তাহলেই কেবল তা সম্ভব। আমি দেখতে চাই, এয়ারপোর্টের এপিবিএন এয়ারপোর্টকে সে অবস্থায় পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক সহযোগী হচ্ছে এবং একসময় প্রথম শ্রেণীর একটি বিমাননবন্দরের সব ধরনের নিরাপত্তা সুচারুভাবে দিতে পারছে। সবার কাছে এ সংস্থাটির সুনাম ছড়িয়ে পড়বে, সেটাই আমার চাওয়া।

- দীর্ঘ আলাপচারিতায় অনেক কথা হলো। সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এফ/১৭:২০/১৯মার্চ

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে