Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৯-২০১৬

হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সমুদ্রে

শংকর বড়ুয়া রুমি


হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সমুদ্রে


কক্সবাজার, ১৯ মার্চ-  কক্সবাজারে কয়েকটি তারকামানের হোটেল-মোটেল ছাড়া বাকিগুলো চলছে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ছাড়া।

ফলে হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সমুদ্র ও বাঁকখালী নদীতে পড়ে দূষিত করছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।শ্বাসমূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকিতে রয়েছে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।

শহরের হোটেল-মোটেল জোনে গড়ে উঠেছে সাড়ে তিনশ’ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও এসটিপি রয়েছে তারকামানের সাতটি হোটেলে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত তদারকি কার্যক্রমের পর পরিবেশগত ছাড়পত্র ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) না থাকায় ২০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ৮ মার্চ তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয় বলে জানান তিনি।

শরীফুল ইসলাম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারীদের আগামী ২১ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিলের মধ্যে চারটি নির্ধারিত তারিখে পরিবেশগত ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত অনুমোদন না নিয়ে হোটেল পরিচালনার করার ব্যাপারে কারণ দর্শাতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্র্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুগন্ধা গেস্ট হাউজ, আর এম গেস্ট হাউজ, ক্রিসেন্ট বে-রিসোর্ট, স্বপ্ন বিলাস হলিডে, সি ওয়েস্টার, আলীগড় হলিডে সুইটস, সাকিরা বিচ রিসোর্ট, সী এফ রিসোর্ট, ব্লু ওশান রিসোর্ট রয়েছে।

তারকামানের হোটেল সি গাল, ওশান প্যারাডাইস, লং বিচ, সায়মান বিচ রিসোর্ট, কক্স টুডে, সি ওয়ার্ল্ড ও রয়্যাল টিউলিপ সি পার্লের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এসটিপি রয়েছে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

এছাড়া তারকামানের হোটেল সি প্যালেস কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তারের সহকারী পরিচালক শরীফুল বলেন, পয়ঃসহ অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি বাঁকখালী নদী ও সাগরে পড়ায় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূল ঢেকে যাচ্ছে। এতে পুরনো গাছ মরে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন গাছ জন্মাতে পারছে না। ফলে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

কক্সবাজার শহরের ছড়া ও নালা-নর্দমা চিহ্নিত করে একটি কেন্দ্রীয় এসটিপি নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সামাজিক সংগঠন কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনসহ শহরের হোটেলগুলো এসটিপি ছাড়া চলায় পরিশোধন ছাড়াই পয়ঃবর্জ্য সরাসরি মিশে যাচ্ছে নালা-নর্দমায়।

“এতে পয়ঃবর্জ্যর উৎকট গন্ধে পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি এসব বর্জ্য সরাসরি সমুদ্র ও বাঁকখালী নদীতে পড়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও জলজ প্রাণী-প্রতিবেশ।”

এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্মিত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে জানান গিয়াস উদ্দিন।

ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এন করিম বলেন, “ওশান প্যারাডাইসের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসটিপি রয়েছে। সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এসটিপি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ন অনেক ব্যয় সাপেক্ষ।

“একটি এসটিপি স্থাপন করতে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এত টাকা খরচ করা সব হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারের উচিত একটি সেন্ট্রাল এসটিপি স্থাপন করা।”

তবেই হোটেল-মোটেল জোনে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিবেশ অদিদপ্তর কর্মকর্তা শরীফুল বলেন, কক্সবাজারে প্রায় ৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেছে জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় স্থাপনের আগে। এগুলোর কোনোটিরই পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন (এসটিপি) ব্যবস্থা নেই।

“আর গত কয়েক বছরে যেসব হোটেলকে শর্তসাপেক্ষে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে; সেগুলোও এখন পর্যন্ত এসটিপি স্থাপন করেনি।”

হোটেল-মোটেলগুলোকে বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে এসটিপি স্থাপন না করলে অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করা হবে না।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, আবাসিক দুইটি হোটেল নিয়ে ১৯৯৮ সালের দিকে গড়ে ওঠে হোটেল-মোটেল জোন পর্যটন এলাকা।এলাকাটি তখন কক্সবাজার সদরের ঝিংলজা ইউনিয়নের আওতাধীন ছিল।পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গড়ে ওঠে বেশ কিছু হোটেল-মোটেল।

“তখন কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ছিল না। আর ২০১০ সালে এলাকাটি কক্সবাজার পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়।”

তিনি বলেন, এর ফলে প্রথম দিকে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতির ক্ষেত্রে আজকালের মতো পরিবেশগত ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা ছিল না। এক্ষেত্রে অসংগতির দায় শুধু হোটেল কর্তৃপক্ষের উপর চাপালে হবে না।

সকলের সমন্বিত উদ্যোগে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত করণীয় নির্ধারণ জরুরি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে পরিবেশের কথা তুলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।”

এস/০৪:৪১/১৯ মার্চ

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে