Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (160 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৯-২০১৬

আমিই তো বিদ্রোহ করেছি জিয়ার আগে: সফিউল্লাহ (ভিডিও সংযুক্ত)

আমিই তো বিদ্রোহ করেছি জিয়ার আগে: সফিউল্লাহ (ভিডিও সংযুক্ত)

যারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেন, তাদের একাত্তরে ২৬ মার্চের আগেই গাজীপুরে সৈনিকদের বিদ্রোহের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ।

জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টের সৈন্যদের বিদ্রোহের বছরপূর্তিতে বাংলাদেশের অন্যতম নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনেকে বলে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক! আমি তো বিদ্রোহ করেছি জিয়াউর রহমানের আগে। আমি কি জিয়াউর রহমানের কথায় বিদ্রোহ করেছি?

“আমি যেদিন বিদ্রোহ করেছি, ২৫ শে মার্চ সে তো তখন সোয়াতের মাল খালাস করছিল চিটাগং পোর্টে। আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে। ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিক, আমেরিকান ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট আছে।”

একাত্তরের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার পর বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি শুরু হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধন শুরু করে এবং বন্দি করে বঙ্গবন্ধুকে। বন্দি হওয়ার আগেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একাধিক ব্যক্তি পাঠ করে শোনান। এর মধ্যে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানও ছিলেন।

এর ভিত্তিতে বিএনপি জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলে দাবি করলেও তা না করতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশও রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই সহযোদ্ধা জিয়ার মধ্যে ‘রাষ্ট্রপতি’ হবার বাসনা দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রথম সেনা প্রধান সফিউল্লাহ।

“..বোয়ালখালীতে তাকে পাওয়া যায় আর সেখান থেকে তাকে ২৭ তারিখে নেওয়া হয় কালুরঘাট। সেখানে সে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে। সেটার প্রতিবাদ করা হলে সে বলে, আই অন বিহাফ অব বঙ্গবন্ধু। সে সেটা কারেক্ট করে।

“আমরা তখন ভেবেছি অন্যদেরকে উত্তেজিত করতে এটা সে করেছে। কিন্তু তার মনের ভেতরে যে রাষ্ট্রপতি হবার ইচ্ছা ছিল সেটা তো পরে বোঝা গেছে।”

পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর আগেই বাঙালি সৈন্যদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সফিউল্লাহ বলেন, “আমরা নিজের থেকে তো তৈরি হচ্ছিলাম। সিদ্ধান্ত নিছিলাম যে এখন যদি এমন কিছু হয় তাহলে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করব। মুখে না, অস্ত্রের মাধ্যমেই হবে প্রতিবাদটা।”

১৯৭১ সালে বাঙালিদের মধ্যে ‘স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এতই তীব্র’ ছিল যে তারা ‘যে কোনো মূল্যে সে পথে অগ্রসর হত’ বলেও মন্তব্য করেন এই সেনা কর্মকর্তা।

“সাড়ে সাত কোটি বাঙালি।..  আমরা যদি না থাকতাম, তাহলেও তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যেই কিছু করত।”

১৯ মার্চ জয়দেবপুরে ‘প্রথম বিদ্রোহ’র বিষয়ে তিনি বলেন, “ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার ছিল জানজুয়া খায়ের। সে হঠাত্ করেই সিদ্ধান্ত নিল যে সে আমাদের সাথে লাঞ্চ করতে আসবে। আসল উদ্দেশ্য হল আমাদেরকে নিরস্ত্র করা। আমরা এটা বুঝতে পেরেছিলাম।”

এজন্য অধীনস্ত বাহিনীকে আগে থেকেই প্রস্তুত রেখেছিলেন সফিউল্লাহ।

“জানজুয়া আইসা দেখে প্যালেসের চারদিকে মেশিনগান, মাঠের মধ্যে মর্টারগুলো সেট করা আছে ... দ্যাখে সব ট্রুপসের মধ্যে যুদ্ধকালীন সময়ে যেভাবে অস্ত্র দেওয়া হয় ঠিক ওভাবেই অস্ত্র দেওয়া।”

এর কারণ জানতে চাইলে সফিউল্লাহ জানজুয়াকে বলেন, “সিচুয়েশন অ্যারাউন্ড মি ইজ ওর্স্ট টাইম। আই মে বি মবড অ্যানি টাইম। বাট আয়াম রেডি টু প্রোটেক্ট মাইসেল্ফ। মানে আমি তাকে উত্তরটা এভাবে দিয়েছি যে সে জানুন কে আমিও বুঝেছি যে সে কেন আসছে এবং তার যদি কোনো ও রকম কোনো চিন্তা থাকে তাহলে হি শুড বি রেডি।”

জানজুয়ার নির্দেশেই সেনাবাহিনী ওইদিন সাধারণ মানুষের উপর গুলি ছুড়েছিল বলে জানান যুদ্ধকালীন এ সেক্টর কমান্ডার।

“আলটিমেটলি উই হ্যাড টু ইউজ ফায়ার ফর অ্যা ফ্যাক্ট। কিছু করতে হইছে তাতে। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত ওই রেল বগিগুলি না সরাইতে পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে (জানজুয়াকে) বাইর করতে পারছি না। ..ওইদিন পরবর্তীতে কিছু ফায়ার ফর ইফেক্ট করে। দুজন মারা যায়, দুজন উন্ডেড হয়।”

জয়দেবপুর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ জনগণ পাকবাহিনীর উপর আক্রমণ করে বলেও জানান তিনি।

“ওইখানে একজন লোক আর্মির একটা লোককে জাপটায় ধরছে, তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার জন্য। তো অস্ত্র নিতে পারে নাই, কিন্তু অন্যরা তাকে ধরে বেয়নেট দিয়ে মেরে ফেলছে।”

নয় মাসে বাঙালির প্রতিরোধ যুদ্ধের তোড়ে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় বলেও মন্তব্য তার।

“পাকিস্তানিরা এক পর্যায়ে পারলে পালায়া যায়। কিন্তু পালাবে কী কইরা? তারা চাচ্ছিল একটা সিজফায়ার হোক। এটা হলে তারা একটা আন্ডার কন্ডিশনে সারেন্ডার করতে পারবে।”

যুদ্ধকালীন সময়ে সৈন্যদের ‘ভালোবাসা পাওয়া’র কথাও স্মরণ করেন এ সেক্টর কমান্ডার। স্মরণ করেন ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মুহূর্তও।

“অরোরা সাইন করল। এরপর জেনারেল নিয়াজী সাইন করে তার পিস্তল দিতেছিল … ঘড়িতে তখন ৪.৩১ মিনিট। আর চারদিকে জয় বাংলা…।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে