Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৯-২০১৬

কাবিননামায় বর-কনের ছবি বাধ্যতামূলক

কাবিননামায় বর-কনের ছবি বাধ্যতামূলক

ঢাকা, ১৯ মার্চ- বাল্যবিবাহ রোধে কাবিননামায় বর ও কনের ছবি সংযোজন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। বিবাহের দিনক্ষণ, বর-কনের বয়সের ক্ষেত্রে দিন, মাস ও বছর উল্লেখ করার পাশাপাশি তাদের জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরও থাকবে কাবিননামায়। এমনকি মৌলভীর (যিনি বিবাহ পড়ান) নাম-ঠিকানাও লিপিবদ্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ১৯৭৪-কে মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত করাসহ বাল্যবিবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলেন, কাবিননামায় বর ও কনের ছবি সংযোজন, কাজী ও মৌলভীর নাম-ঠিকানা উল্লেখসহ বাল্যবিবাহ রোধে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহের মূল কারণ দারিদ্র্য ও অশিক্ষা দূর করতেও চলছে নানা কর্মসূচি। এ ছাড়া বিবাহ নিবন্ধক, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এগুলো কার্যকর হলে বাল্যবিবাহ হ্রাস পাবে।

বৈঠকে বলা হয়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৭৪ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা কমে হয়েছে ৫২ শতাংশ। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যেই দেশকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে চায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা শেষে ৩৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বৈঠকে।

উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো হল, প্রতিটি বিবাহ বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইনের আওতায় আনার কার্যকর কৌশল তৈরি করে বিবাহ নিবন্ধকের (কাজী) দায়িত্ব নির্ধারণ করা। বিবাহ যারা পড়ান (মৌলভী) এবং বিবাহ নিবন্ধকের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌর এলাকার কাজী, নোটারি পাবলিক ও নিবন্ধক ছাড়া যারা বিবাহ পড়ান তাদের নজরদারির আওতায় আনা, কাজীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও কাজীর সহকারীদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে নির্দেশনা জারি করা। জেলা-উপজেলায় বিবাহ পড়ানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা, বাল্যবিবাহ নিরোধে জেলা ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাদের মামলা দায়েরের ক্ষমতা দেয়া ও সরকারি বিভিন্ন সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্য/সদস্যাদের বাল্যবিবাহ থেকে বিরত রাখা নিশ্চিত করা।

বৈঠকে বাল্যবিবাহ বন্ধে জনগণকে সচেতন করতে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। তাতে বলা হয়, জুমার নামাজের খুতবার আগে তারা এ বিষয়ে মুসল্লিদের বয়ান করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইনানুগভাবে বিবাহ নিবন্ধন, নিবন্ধনের সুবিধা ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্যের কনটেন্ট তৈরি করে দেবে। জুমার নামাজের খুতবার আগে ইমামরা তা থেকে মুসল্লিদের পড়ে শোনাবেন।

বিবাহ পড়িয়ে থাকেন এমন ব্যক্তিদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিবাহ নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া, কাজীর উপস্থিতিতে মৌলভীর বিবাহ পড়ানো নিশ্চিত করা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ ছাড়া ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া বন্ধ করতে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিতে বলা হয়। অসহায়, দরিদ্র ও বাল্যবিবাহের শিকার হতে পারে এমন শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করতে সমাজসেবা অধিদফতরকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অসহায়, দরিদ্র ও বাল্যবিবাহের শিকার হতে পারে এমন শিশুদের অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দিতে বলা হয়।

পাশাপাশি বাল্যবিবাহ নিরোধ ও বিবাহ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে তথ্যচিত্র ও অনুষ্ঠান প্রচার অব্যাহত রাখার কথা বলা হয় বৈঠকে।

এফ/১০:০৭/১৯মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে