Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৮-২০১৬

খুলনায় হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি

খুলনায় হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি

খুলনা, ১৮ মার্চ- সদ্য প্রসূত যমজ সন্তান। একটি চুরি হয়ে গেছে। আরেকটিকে বুকে জড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মা। নাড়িছেঁড়া ধনকে হারিয়ে মুখে তাঁর রা নেই। থেকে থেকে বিলাপ করে উঠছেন শুধু।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের গাইনি বিভাগে গিয়ে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। বিভাগের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়েছে মা ও নবজাতককে। সেখান থেকেই গতকাল সকালে চুরি হয়েছে তিন দিন বয়সী দুই যমজ সন্তানের একটি। সন্তান হারানো মায়ের নাম সানজিদা আক্তার। তাঁর স্বামী মো. ইদ্রিস শেখ। বাড়ি খুলনার রূপসা থানার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে। তাঁদের আরও দুটি সন্তান রয়েছে। এই দম্পতি যমজ দুই সন্তানের মধ্যে ছেলেটির নাম রেখেছেন জুনায়েদ ও মেয়েটির নাম জোবাইদা। এর মধ্যে জুনায়েদ চুরি হয়েছে।

শিশু চুরির ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্তদল করেছে। নবজাতকের বাবা করেছেন মামলা। তাতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে।

দুই নবজাতকের নানি রেবেকা বেগম জানান, গত সোমবার তাঁর মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় যমজ সন্তানের। সেই থেকে সানজিদাকে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়েছে। তিনি ও মেয়ের শাশুড়িও সেখানে আছেন।

রেবেকা বেগম বলেন, বাচ্চা হওয়ার পর থেকে একজন মধ্যবয়স্ক নারী তাঁদের কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন। ওই নারী জানান, তাঁর এক আত্মীয় হাসপাতালের চারতলায় ভর্তি আছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে তাঁদের সখ্য গড়ে ওঠে। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে তিনি রুটি, ভাজি ও কোমল পানীয় নিয়ে এসে তাঁদের নাশতা করতে বলেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুনায়েদকে কোলে নিয়ে তাঁদের কোমল পানীয় খেতে বলেন। এই পানীয় প্রথমে তিনি ও তাঁর বেয়ান পরে সানজিদাও একটু খান। এরপরই তাঁদের ঝিমুনি আসে। প্রথমে মনে করেছিলেন, রাত জাগার কারণে এমনটি হচ্ছে। পরে নয়টার দিকে জেগে দেখেন, কক্ষে নার্স ও চিকিৎসকেরা অবস্থান করছেন। তখন বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঘটেছে।

ঘটনার সময় পোস্ট অপারেটিভে দায়িত্ব পালন করছিলেন নার্স স্নেহলতা ভৌমিক ও যূথিকা রানী দেবনাথ। শিশু চুরির সংবাদে উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করেন। তাঁরা বলেন, দুই দিন ধরে ওই নারী পরিবারটির সঙ্গে ঘোরাফেরা করছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, ওই নারী তাঁদেরই লোক।
জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি ১১ বছর ধরে এখানে আছি। এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এখানে ঘটেনি। সে জন্য ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ব্যবস্থাও নেই। এখন হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা বসানোর চিন্তাভাবনা চলছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও খুলনা সিভিল সার্জন রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনা জানার পর পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনসহ সব মহলকে জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি উদ্ধারে শহরের তল্লাশিচৌকিগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একটি সিভিল টিমও কাজ করছে।

এস/০২:৪০/১৮ মার্চ

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে