Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৮-২০১৬

বালু তোলায় পাড়ে ভাঙন

বালু তোলায় পাড়ে ভাঙন

নাটোর, ১৮ মার্চ- নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরে বড়াল নদে যন্ত্র বসিয়ে তিন মাস ধরে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন কম করে হলেও ২০ থেকে ২৫ ট্রাক বালু তোলা হচ্ছে। এতে এরই মধ্যে ওই এলাকায় নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্রমেই ফসলি জমি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের ঠিক বাঁয়ে বিশাল আয়তনের বালুর স্তূপ। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বড়াল নদ। বালু উত্তোলনযন্ত্র বসিয়ে এ নদের তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। পরে পাড়ে স্তূপ করে রাখা সে বালু এক্সকাভেটর যন্ত্র দিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন নির্মাণ স্থাপনায়। 
২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক্সকাভেটর যন্ত্র দিয়ে ট্রাক ভরার কাজ চলছিল। বালু উত্তোলনকারী আজিজুল ইসলাম পাড়ে বসে হিসাব রাখছিলেন। কিছু শ্রমিক বালুর সঙ্গে উঠে আসা পানি সরিয়ে ফেলার কাজ করছিলেন। এই কর্মযজ্ঞ চলছে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে। বালু তোলার ফলে নদের পূর্ব পাড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এরই মধ্যে পাড়ের কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদে বিলীন হয়েছে। পাশের বেশ অনেকটা এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। আবাদি জমির মধ্য দিয়েও গেছে ফাটল। নদের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের অতিথিশালাসহ ছোট-বড় বহু পাকা স্থাপনা। ভাঙনস্থলের দক্ষিণে রয়েছে বড়াল নদের ওপর কাদিরাবাদ-ধূপইল সেতু। 

বালু তোলার স্থানে গিয়ে কথা হয় আবদুল মজিদ নামের এক রাখালের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সময় নদে পানি কম থাকায় প্রতিবছরই তাঁরা নদের পাড়ে গরু-ছাগল চরান। কিন্তু এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, নদের তীর অবিরাম ভাঙছে। ভয়ে তাঁরা নদের পাড়ে গরু-ছাগল চরাতে নেন না। 
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বড়াইগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা বলেন, মাসের পর মাস নদ থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে বালু তোলার স্থানে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এটা নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। পরিবেশের স্বার্থে তিনি বালু তোলা বন্ধের দাবি জানান।
বালু উত্তোলনযন্ত্রের মালিক আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বড়াল থেকে বালু তুলছেন। এ পর্যন্ত এক লাখ ঘনফুটেরও বেশি বালু তোলা হয়েছে। প্রতি ঘনফুট বালু বাবদ তিনি আয় করেছেন দুই টাকা। এখনো প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক বালু তোলা হচ্ছে। বালু তোলা সম্পর্কে তিনি বলেন, এতে তেমন ক্ষতি হচ্ছে না। নদের তলদেশে মাত্র ৭ ফুট গভীর করে বালু তোলা হচ্ছে। বর্ষায় এটা পূরণ হয়ে যাবে। 

তবে বালু তোলার সঙ্গে জড়িত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৭ থেকে ১০ ফুট গভীর ও ১০ ফুট প্রশস্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ হোসেন বালু তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ১ মার্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু তুলতে দেখেছি। এর আগে স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে শুনেছি।’ তিনি বলেন, বড়াল নদের পশ্চিম তীর বাগাতিপাড়া উপজেলার মধ্যে। পূর্ব তীর লালপুর উপজেলায়। লালপুর অংশ থেকে বালু তুলে তা বাগাতিপাড়ার অংশে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এস/০২:৪০/১৮ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে