Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৭-২০১৬

মার্কিন নির্বাচনে প্রার্থীদের অর্থ যোগাচ্ছে কে?

আরাফাত পারভেজ


মার্কিন নির্বাচনে প্রার্থীদের অর্থ যোগাচ্ছে কে?

ওয়াশিংটন, ১৭ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জোয়ার। যত বেশি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল জানা যাচ্ছে ততই কমছে প্রার্থীদের সংখ্যা, বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। আরও তীব্র এবং সংকোচিত হচ্ছে প্রতিযোগিতা। রিপাবলিকান দল থেকে এই মুহূর্তে মাঠে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেড ক্রুজ। তবে ট্রাম্পের পাল্লা ক্রুজের থেকে অনেক ভারী। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন এবং বার্নি স্যানডার্স। হিলারির অবস্থান বার্নির চেয়ে শক্ত। নির্বাচনে প্রার্থীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই অর্থের জোগান দিচ্ছে কারা?    

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্বাচনে যে অর্থ অনুদান পাবেন, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য দাতাদের নামসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। ভোটাররা যাতে প্রার্থীদের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন সেজন্যই এ ব্যবস্থা। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের মূল ৪ জন প্রার্থীর মোট অর্থ এবং উৎস নিচে তুলে ধরা হলো :    


ডোনাল্ড ট্রাম্প

অন্য সমস্ত প্রার্থীদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খরচ সবচেয়ে কম। নির্বাচন উপলক্ষে ট্রাম্পের একাউন্টে রয়েছে আড়াই কোটি মার্কিন ডলার। তিনি যেহেতু ধনকুবের, সেহেতু এই অর্থের বেশিরভাগই তার নিজের। যদিও এই অর্থ আসলে তিনি ঋণ হিসাবে তিনি নিয়েছেন। পরে তাকে এই ঋণ শোধ করতে হবে। তবে স্বাস্থ্য এবং আবাসন নির্মাণ খাত থেকে তিনি অনেক অনুদান পেলেও সাধারণ মানুষের থেকে পাওয়া অনুদান নেই বললেই চলে।


টেড ক্রুজ

টেড ক্রুজের নির্বাচনী একাউন্টে রয়েছে সাড়ে ৫ কোটি ডলার। তার টাকাপয়সা ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ হলেও তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক পিছিয়ে আছেন। টেক্সাসের সিনেটর ক্রুজ বেশিরভাগ অনুদান পেয়েছেন তার অঙ্গরাজ্য থেকেই। বিশেষ করে টেক্সাসের তেল, গ্যাস, আর খামারবাড়ি থেকেই বেশিরভাগ মানুষ অর্থ অনুদান করেছেন তাকে।
টেড ক্রুজ


হিলারি ক্লিনটন

হিলারি ক্লিনটনের অর্থের পরিমাণ ক্রুজের চেয়ে অনেক বেশী। আসলে সবচেয়ে বেশী অর্থ হিলারির একাউন্টেই রয়েছে। তার নির্বাচনী তহবিলে রয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। এর বেশিরভাগই এসেছে আইনজীবী ও বিভিন্ন আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। হিলারি ৪ মিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন শুধু ব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স এ কারণেই বারবার অভিযোগ তুলেছেন, রাজনীতিতে ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাব নিয়ে। কারণ হিলারির মত জনপ্রিয় প্রার্থীর অর্থ জোগান দিচ্ছে তারা। আড়াল থেকে মার্কিন রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে আসলে এই পুঁজিপতিরাই।
হিলারি ক্লিনটন


বার্নি স্যান্ডার্স

প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী অর্থের তহবিল গড়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় প্রভাবশালী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেন নি। অথচ এরপরেও তার তহবিলের অর্থ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলারে। তিনি ওয়াল স্ট্রিটের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদানের সমালোচনা করে আসছেন বহুদিন থেকেই। তাকে অনেকে অর্থ দিলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমেরিকার সাধারণ জনগণের দেয়া ২০০ ডলারের নীচের ছোট ছোট অনুদান দিয়েই গড়ে উঠেছে তার তহবিল। মজার বিষয় হচ্ছে, চাকরিহীন বেকার মানুষও তাকে অনুদান দিয়েছেন।
বার্নি স্যানডার্স

এখন পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে আছেন বার্নি স্যানডার্স থেকে। তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হলেও অতীতে বহুবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। অভিজ্ঞতার কথা বাদ দিয়ে যদি নীতির কথা ধরা হয় তাহলে হিলারির চেয়ে যোগ্য প্রার্থী বার্নি স্যানডার্স। এদিকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা দিনকে দিন আরও বাড়ছে। এমনকি খোদ রিপাবলিকানরাই দল বেঁধে লেগেছেন তাকে থামাতে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি জানিয়েছে, যেহেতু আদর্শগত জায়গা থেকে ট্রাম্প ক্রমাগত তার অবস্থান বদলাচ্ছেন সেহেতু তিনি প্রেসিডেন্ট হলে সেটা হবে বিশ্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

আর/১৭:৫৯/১৭ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে