Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৬-২০১৬

আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

খুলনা, ১৬ মার্চ- খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদেই (ইউপি) কমবেশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরাই বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আর এ আচরণবিধি লঙ্ঘনে বাধা দিতে গিয়ে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের রোষানলে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

ইতিমধ্যে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ইউএনও কবির উদ্দীনকে অপসারণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। গত সোমবার ইউএনওর অপসারণের দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে উপজেলায় সমাবেশ করেছেন খুলনা-৬ আসনের (পাইকগাছা-কয়রা) সাংসদ শেখ মো. নূরুল হক।

গত শনি ও রোববার পাইকগাছার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সড়কের ওপরই ঝোলানো হয়েছে কাঠ ও কাগজের তৈরি নৌকা। হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে সন্ধ্যার পর প্রার্থীদের মোটরসাইকেল মহড়া দেখা যায়। রোববার সন্ধ্যার পর হরিঢালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফার পক্ষে মিছিল করা হয়। 

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অনেক প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়। গত রোববার চাঁদখালী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সদস্য প্রার্থী মোজাম্মেল হককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আকতারুজ্জামানের বুকে থাকা নৌকা প্রতীকের ব্যাজ খুলে ফেলতে বলা হয়। পরে ওই এলাকায় ঝোলানো কাগজ ও হার্ডবোর্ডের একটি নৌকা নামিয়ে ফেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা গুজব ছড়িয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের খেপিয়ে তোলেন। এর আগে কপিলমুনিতে ১০ মার্চ রাত আটটার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সমাবেশ করার সময় বাধা দেন ইউএনও।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব ঘটনায় বাধা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের রোষানলে পড়েন ইউএনও। বাধা দেওয়ার অভিযোগে কয়েকবার তাঁর ওপর হামলারও চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সবশেষ গত সোমবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সাংসদ নূরুল হক। নির্বাচনের সময় এলাকায় এ ধরনের বিক্ষোভ মিছিল আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এসব ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাংসদ নূরুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে এক বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেছেন। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধি এভাবে বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলা সদরে আমার একটি বাড়ি আছে। তাই দিনের বেলা সেখানেই থাকি। আর রাতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঘুমাই। কোনটিতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়, সেটা আমার ভালোই জানা আছে।’ সমাবেশে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীক ভাঙচুর করায় এলাকার লোকজন ইউএনওর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। আমি এসে তাদের ঠান্ডা করেছি।’

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ কবির উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাকে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছে। আমি সে অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাই। কোনো দলীয় সমর্থন নয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করছেন।’

এস/০৩:১০/১৬ মার্চ

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে