Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৬-২০১৬

শেরপুরে সুপেয় পানির সংকট, কষ্টে মানুষ

শেরপুরে সুপেয় পানির সংকট, কষ্টে মানুষ

বগুড়া, ১৬ মার্চ- বগুড়ার শেরপুরে ভূগর্ভের পানির স্তর দিনকে দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গৃহস্থালির কাজসহ খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানি সংগ্রহে গ্রামের মানুষকে ছুটতে হচ্ছে বাড়ি থেকে দূরে সেচকাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনের ঘরে।

গতকাল সোমবার উপজেলার গাড়িদহ ও খামারকান্দি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সংসারের কাজে ও খাওয়ার পানির জন্য কালসীমাটি, শিবপুর, রামেশ্বরপুর, পারভবানীপুর, রানীনগর, বোংগা, খামারকান্দি গ্রামের নারী-পুরুষ ছুটছেন গ্রামের মধ্যে বিভিন্ন সেচ খেতের শ্যালো মেশিনঘরে। গ্রামের নারী-পুরুষ খেতের পানি চলাচলের নালায় কাপড় ধোয়াসহ সেরে নিচ্ছেন গোসল।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, তাঁদের ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামের বাড়িগুলোতে হস্তচালিত নলকূপে পানি না ওঠায় ইউনিয়নের শত শত পরিবারের মানুষকে প্রতিবছর পানির কষ্ট পোহাতে হয়। বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।

খামারকান্দি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, গ্রামে খেতের সেচকাজে গভীর নলকূপ চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামের বাড়ি বাড়ি হস্তচালিত নলকূপে পানি ওঠে না। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা খাওয়ার পানির সংকটের মুখে পড়েছেন। গ্রামে মাছ চাষ করা পুকুরের পানি ব্যবহার করলে শরীরে রোগ দেখা দেয়। এ জন্য তাঁরা পুকুরের পানিও ব্যবহার করতে পারেন না। শিবপুর গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, খেতের সেচ মেশিনঘরে পানি তোলা বন্ধ থাকলে তাঁদের খাওয়ার পানি সংগ্রহে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। পারভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আমেনা খাতুন বলেন, গ্রামের ঘরে ঘরে পানির সংকটে আত্মীয়স্বজনও আসতে পারে না।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী এম এ জিন্নাহ বলেন, উপজেলায় বসবাসকারী মোট পরিবারের ৮৫ শতাংশ পরিবার হস্তচালিত নলকূপ ব্যবহার করে থাকে। এসবের বেশির ভাগ নলকূপে ওই তিন মাস ধরে পানি ওঠে না।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রতিবছর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেড় থেকে দুই ফুট করে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ২২ থেকে ২৪ ফুট নিচ থেকে হস্তচালিত নলকূপে পানি ওঠার কথা। এলাকাভিত্তিক এই খরা মৌসুমে পানির স্তর নেমে গেছে স্বাভাবিকের থেকে তিন থেকে আট ফুট নিচে। এ কারণে বাসাবাড়িগুলোতে ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গাড়িদহ ও সুঘাট ইউনিয়নে পানির সংকট সবচেয়ে বেশি। এরপরই পানির সংকটে রয়েছে উপজেলার খামারকান্দি, সীমাবাড়ী ও ভবানীপুর ইউনিয়ন।

উপজেলার সুঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ৪২টি গ্রামের মধ্যে ৩৫টিতে প্রতিবছর খরা মৌসুমে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়ে থাকে। এই সংকট চলছে দীর্ঘ ১২-১৫ বছর ধরে। বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় প্রতিবছর গ্রামের অনেক পরিবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই সংকট চলে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে তিন বছর ধরে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

এস/০৩:১০/১৬ মার্চ

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে