Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৬-২০১৬

অরক্ষিত ময়মনসিংহের আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (লোহার কুটির)

কামরান পারভেজ


অরক্ষিত ময়মনসিংহের আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (লোহার কুটির)

ময়মনসিংহ, ১৬ মার্চ- ময়মনসিংহ শহরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থাপনা হলো আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল বা আলেকজান্ডার ক্যাসেল। স্থানীয়ভাবে এটি লোহার কুটির নামে বেশি পরিচিত। ১৭৮৯ সালে লোহা ও কাঠ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ৭০ বছর ধরে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ তাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, ঐতিহাসিক এ ভবনটি বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চারদিকে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ভবনটি অনেকটা অরক্ষিত। কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে দিনে ও রাতে মানুষজন অবাধে ভবনের বিভিন্ন স্থানে আনাগোনা করে। এতে অনেকটাই হুমকির মুখে পড়েছে স্থাপনাটি।

ময়মনসিংহ জেলার ইতিহাস ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী শহরের জুবিলি উৎসব পালনের জন্য তৎকালীন ভারত সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ড পত্নী আলেকজান্দ্রার নামে দ্বিতল এ ভবনটি নির্মাণ করেন। মতান্তরে ময়মনসিংহের তৎকালীন ইংরেজ কালেক্টর আলেকজান্ডার আইসিএসের নামে ১৮৭৯ সালে এটি নির্মিত হয়। ভবনটি মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্যের বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ভবন ঘিরে ১৯৪৮ সালে ২৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ। শুরুতে আলেকজান্ডার বা আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কলেজের ভবন বৃদ্ধি পেলে ক্যাসেলের দোতলায় শিক্ষকেরা বসবাস শুরু করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিচতলার আটটি কক্ষ কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার বই রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের চারদিকে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ভবনের বারান্দা ও আশপাশে কলেজের পক্ষ থেকে বহিরাগত মানুষকে বসতে নিষেধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। দিনের বিভিন্ন সময়ে নানা বয়সী লোক ভবনের বারান্দায় বসে আড্ডা দেন। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সঙ্গে অবস্থিত ময়মনসিংহ গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বেশির ভাগ সময়ই ক্যাসেলের বারান্দায় বসে সময় কাটান। সম্প্রতি মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ক্যাসেলের একাংশে কাঁটাতারের বেষ্টনী দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য অংশে কোনো প্রাচীর নেই।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের আরেক ঐতিহাসিক স্থাপনা মহারাজ শশীকান্তের নামে নামকরণ করা শশীলজটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিজেদের অধীনে নিয়ে যায়। ওই ভবনটি ময়মনসিংহের মহিলা টিচার্স কলেজের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শশীলজটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেছে।

টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সূত্র জানায়, বর্তমানে কলেজটিতে তিনতলাবিশিষ্ট তিনটি ভবন রয়েছে। এরপর আরও ভবন তৈরির জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত স্থান। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বিভাগ যদি কলেজের জন্য একটি গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলটি কলেজ কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিতে আপত্তি করবে না।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ক্যাসেলে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রতি একজন আনসার সদস্য নিয়োগ করেছি। বহিরাগতদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। ভবনের কোনো অংশে বসে থাকতে দেখলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

গ্রন্থাগারের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘পৃথক ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হলে ক্যাসেলটি ছেড়ে দিতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।’
ময়মনসিংহ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সহকারী জিম্মাদার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রায় আট মাস আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে একটি দল এসে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলটি পরিদর্শন করেছে। তবে তাদের কী সিদ্ধান্ত, সেটি আমার জানা নেই।’

এস/০২:৪৫/১৬ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে