Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৬-২০১৬

নূর হোসেনের আরেক মামলা প্রত্যাহার সরকারি কৌঁসুলি জানেন না

নূর হোসেনের আরেক মামলা প্রত্যাহার সরকারি কৌঁসুলি জানেন না

নারায়ণগঞ্জ, ১৬ মার্চ- নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তাঁর পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিনের আমলি আদালত (ক-অঞ্চল) ১৪ মার্চ বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী ওরফে খোকন ও এপিপি কে এম ফজলুর রহমান দুজনেই গতকাল মঙ্গলবার বলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, আসামিপক্ষের সঙ্গে সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে আদালতে বাদী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহরণ, খুন ও লাশ গুমের ঘটনা-পরবর্তী সময়ে মুরাদ হোসেন আদালতে মামলা করেন। আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, নূর হোসেনের নেতৃত্বে আসামিরা ২০১২ সালের ২ মে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকায় তাঁর (বাদী) মালিকানাধীন মেসার্স মেঘনা লাইমসে (চুনা তৈরির কারখানা) হামলা চালিয়ে ১২ লাখ টাকা লুট করেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে খুন করে লাশ গুম ও কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ওই হামলায় কারখানার মালিকপক্ষের লোক আবদুল মালেক আহত হন। এরপর নূর হোসেন তাঁর কারখানা দখল করে নেন। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে নূর হোসেনের চাপে পুলিশ তা নেয়নি। সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন পালিয়ে ভারতে গেলে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা নেয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত ছয় আসামি—নূর হোসেন, আবদুল হাই মেম্বার, রুহুল আমিন, ছানাউল্লাহ ছানা, আলী আহাম্মদ, মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর মধ্যে আবদুল হাই মেম্বার ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট, রুহুল আমিন একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জামিন পান। নূর হোসেনসহ চার আসামি সাত খুন মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত। নূর হোসেন ও আলী আহমেদ কারাগারে। শাহজাহান ও ছানাউল্লাহ পলাতক।

নূর হোসেনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারে বাদী মুরাদ হোসেনের পক্ষে আপসনামা আদালতে জমা দেন আইনজীবী মহসীন মিয়া।

তবে মামলা দায়েরের সময় মুরাদ হোসেনের আইনজীবী ছিলেন সাত খুনের মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘রহস্যজনক কারণে বাদী মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি আমাকে জানাননি। বাদী মামলা প্রত্যাহারের জন্য আদালতে যে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়, বাদী ও আসামির আইনজীবী দুজনেই একই ল ফার্মের। আমার ধারণা, বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, চাপ প্রয়োগে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। বাদীর মুঠোফোনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে যে ধারায়, তা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার্য। যে ধারায় মামলা হয়েছে নিম্ন আদালতে তা নিষ্পত্তি আইনবহির্ভূত।’
বাদী মুরাদ হোসেনের মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এস/০২:৩০/১৬ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে