Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৫-২০১৬

যা কখনো হয়নি তা-ই হচ্ছে, ইসির ‘ইজ্জতের প্রশ্ন’ উঠেছে

যা কখনো হয়নি তা-ই হচ্ছে, ইসির ‘ইজ্জতের প্রশ্ন’ উঠেছে

ঢাকা, ১৫ মার্চ- আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে নির্বাচনে কমিশনের অসহায়ত্ব সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের প্রধানদের ডেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা থাকলেও এসব সংস্থার সদর দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী। এভাবে ‘দ্বারে দ্বারে’ ঘোরা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ কমিশন কর্মকর্তারা। এতে করে একটি সাংবিধানিক সংস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের ডেকে ইসি বৈঠক করতে পারেন সেখানে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠিানের একজন কমিশনারের এভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে যাওয়াটা সমীচীন হচ্ছে না। জাবেদ আলীর এই দপ্তর ভিজিটে ইসির অসহায়ত্বেরই প্রকাশ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বোধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেছেন গত ৩ মার্চ। এর ১০ দিন পর পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব সদর দপ্তরে সফরের জন্য তিন দিনের সূচি করা হয়। সিইসি সবার সঙ্গে বৈঠক করার পর আবার আলাদা করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাওয়াটা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

গত রোববার সফরসূচির নোটিশ জারি করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শাহ আলম। এতে বলা হয়, ১৪-১৬ মার্চ ইউপি সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে অবহিত হওয়ার জন্যে এসব দপ্তর পরিদর্শন (ভিজিট) করবেন।

সোমবার ইসি সূত্র জানায়, সোমবার থেকেই আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর সদর দপ্তরগুলোতে যাওয়া শুরু করেছেন জাবেদ আলী।
 
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে বসে একজন নির্বাচন কমিশনার সফরসূচি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের ডেকে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে ইসি, সেখানে তাদের দ্বারে দ্বারে যাওয়াটা সমীচীন হচ্ছে না। এটা নির্বাচন কমিশনের ইজ্জতেরও প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩ মার্চের সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী ইতোমধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে পরিপত্র জারির প্রক্রিয়া চলছে। ইসি সচিবালয় এ বিষয়ে যোগাযোগও রাখছেন।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বয় বৈঠকের পর আলাদাভাবে সদর দপ্তরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনারের এমন করে অবহিত হওয়ার রীতি আগে দেখেননি বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজন হলে ইসি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আরেক দফা বৈঠকও করতে পারেন। উল্টো একজন কমিশনার গিয়ে সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে অবহিত হওয়ার নজির এটাই প্রথম।

প্রসঙ্গত, সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনের সমন্বয় বৈঠকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অধিকাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এনইসি মিলনায়তনের ইউপি নির্বাচনের সভায় অনেকে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। তবে ৩ মার্চ আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠান। এ কারণেই এমন পরিদর্শন হতে পারে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের।

জানতে চাইলে-এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজেই তো বাহিনীগুলোর প্রধানদের ডাকতে পারেন। সেখানে তিনি কোন উদ্দেশ্য যাচ্ছেন, তা পরিষ্কার না হয়ে কিছু বলা যাবে না।

এদিকে এ  বিষয়ে জানার জন্য নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জাবেদ আলী দুপুরের পর থেকে নির্বাচন কমিশনে ছিলেন না।

উল্লেখ্য, এবার সারাদেশে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে ছয় ধাপে  ভোট অনুষ্ঠিত হবে।১ম ধাপে ভোট গ্রহণ ২২ মার্চ। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৩১ মার্চ। এর পরে যথাক্রমে চার ধাপে ২৩ এপ্রিল, ৭ মে, ২৮মে এবং ৪ জুন ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এফ/০৯:২৭/১৫মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে