Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৫-২০১৬

কিডনির পাথর প্রতিরোধ করুন খাদ্যভ্যাসের কিছু পরিবর্তনে

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


কিডনির পাথর প্রতিরোধ করুন খাদ্যভ্যাসের কিছু পরিবর্তনে

অসুখ বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে প্রচন্ড রুগ্নতা আর যন্ত্রণামাখা, জর্জরিত কোন এক মানুষের মুখ। কিন্তু ছোটখাটো অসুখগুলো বেশ জানান দিয়ে মানুষের জীবনে এলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই শক্তিশালী আর মারাত্মক অসুখগুলোকে দেখা যায় খুব নীরবে আসতে। একদম সুস্থ মানুষকে হঠাৎ দেখা যায় ভয়ংকর কোন অসুখের কবলে পড়ে যেতে। আর এরককমই প্রতিদিনকার জীবনে না বুঝে না জেনে কর্মকান্ডের ফলাফলস্বরূপ আমাদের শরীরে বাসা বেঁধে নেওয়া ক্ষতিকর এক ঘাতকের নাম হচ্ছে কিডনি পাথর। তবে আপনি কি জানেন যে এই কিডনি পাথরকে খুব সহজেই আপনি থামিয়ে দিতে পারেন আপনার সামান্য কিছু খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে? চলুন দেখে আসি এক নজরে।

১. প্রচুর পানি পান করুন
সারাদিনে প্রচন্ড দৌড়াদৌড়ি করার পর আপনার শরীরের বেশিরভাগ পানিটা হয়তো ঘামের ভেতর দিয়ে ঝরে যেতে পারে। ফলে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও একদমই কমে যেতে পারে আপনার। কিংবা গেলেও হয়তো হাতে গুনে কয়েকবার। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই ঘামের অতিরিক্ত পরিমাণ আর মূত্রত্যাগের স্বল্পতাই আপনার শরীরকে অবসর দেয় কিডনিতে পাথর জমাট বাঁধতে পারে এমন উপাদানকে শরীরের ভেতরে রেখে দিতে? তাই যতটাই দৌড়াদৌড়ি বা কাজ করুন না কেন সারাদিনে, প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। যাতে করে কিডনিতে পাথর তৈরিকারী উপাদানগুলো মূত্রের সাথে বেরিয়ে যায় দেহ থেকে ( হেলথ লিংকবিসি )।

২. অক্সালেটযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন
ভাবছেন অক্সালেট কি? এটি একটি খাদ্যোপাদান যেটা কিনা ফল, শাক-সব্জী, বাদাম, বীজ, শস্য, চা এবং চকোলেটসহ আরো বেশকিছু খাবারে পাওয়া যায়। অনেকে মনে করে থাকেন যে অক্সালেটযুক্ত খাবার কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে সেটা একেবারেই সত্যি নয়। বরং, এ ধরনের খাবারগুলো ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোনকে শরীর থেকে দূর করার জন্যে ভালোরকম কাজ করে। তাই খাবারের সাথে সাথে সবসময় খেয়াল রাখুন যাতে কিছু অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবারও গ্রহণ করা হয়।

৩. ক্যালসিয়ামকে হ্যাঁ আর সোডিয়ামকে না বলুন
অনেকেই ভেবে থাকেন যে ক্যালসিয়ামই কিডনির পাথরের পেছনে দায়ী। তাই কিডনি পাথর প্রতিরোধে সবারই দরকর প্রথমে এই ক্যালসিয়ামকেই না বলা। অনেক সময় অনেক চিকিত্সকও এই কাজটি করে থাকেন। রোগীকে ক্যালসিয়াম খাওয়া বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। বাস্তবে ক্যালসিয়াম নয়, সোডিয়ামই কিডনি পাথর তৈরিতে মানুষকে সাহায্য করে। আর তাই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন আগের মতনই। তবে খাদ্যতালিকা থেকে সোডিয়ামকে বা লবনকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন (কিডনি)।

৪. পাথরভেদে খাবারে বিভিন্নতা:
আপনার কিডনিতে কি ধরনের পাথর তৈরি হচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করে খাবারে বদল আনতে পারেন আপনি। এক্ষেত্রে-
ক. ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোনের ক্ষেত্রে-
১. সোডিয়াম বাদ দেওয়া
২. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন- ডিম,মাছ, মাংস ইত্যাদি না খাওয়া
৩. ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করা এবং
৪. হাই অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবারকে খানিকটা এড়িয়ে চলা উচিত।

খ. ক্যালসিয়াম ফসফেট স্টোনের ক্ষেত্রে-
১. সোডিয়াম বাদ দেওয়া
২. প্রাণীজ প্রোটিন কমানো এবং
৩. ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

গ. ইউরিক এসিড স্টোনের ক্ষেত্রে কেবল প্রাণীজ প্রোটিন খানিকটা কমিয়ে দেওয়াটাই ভালো
তাই বলা যায় যে, কিডনি পাথরের নানা ভাগ রয়েছে। তাই এই ভাগগুলোর ওপর নির্ভর করে নানারকম খাদ্যাভ্যাসও রয়েছে। আপনি যদি কিডনি পাথর হবার আশঙ্কা করে থাকেন বা এ ধরনের কোন সমস্যা যদি আপনার আগে থেকেই থেকে থাকে তাহলে চেষ্টা করুন এই নিয়মগুলো মেনে চলতে এবং নিজেকে সুস্থ রাখতে।

লিখেছেন- সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

এফ/০৯:০১/১৫মার্চ

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে