Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৪-২০১৬

মায়ের অপরাধে বন্দিজীবন ৩২ শিশুর

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী


মায়ের অপরাধে বন্দিজীবন ৩২ শিশুর

ঢাকা, ১৪ মার্চ- ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মায়ের কৃতকর্মের ‘সাজা’ ভোগ করছে ৩২ শিশু। এসব মায়ের কেউ মাদক, কেউ হত্যা, কেউ-বা মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত। জেলখানার চারদেয়ালের ভেতরে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী এসব শিশুর সেবাযত্নের ব্যবস্থা থাকলেও তাদের বন্দিজীবনই কাটাতে হচ্ছে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব শিশুর সময় কাটে কারা অভ্যন্তরের ডে-কেয়ার সেন্টারে। বিকেলের পর তাদের পাঠানো হয় বন্দি মায়ের কাছে। ডে-কেয়ার সেন্টারে জেল কর্তৃপক্ষ স্বল্প পরিসরে এসব শিশুর জন্য কিছু খেলনাসামগ্রীর ব্যবস্থা রেখেছে। শিশুর বয়সভিত্তিক খাবারও সরবরাহ করছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের জন্য আছে পড়াশোনার ব্যবস্থাও।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, জেল কোড অনুযায়ী কারাবন্দি কিংবা সাজাপ্রাপ্ত কোনো মা ৪ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে জেলখানায় নিজের কাছে রাখতে পারেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ সদয় হলে ৬ বছর পর্যন্তও শিশুরা জেলের ভেতর তার মায়ের কাছে থাকতে পারে। এরপর এসব শিশুকে তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর যদি অভিভাবক না থাকে তাহলে শিশুসদনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গত ১৩ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘বন্দি’ ছিল ৩২ শিশু। এসব শিশুর মায়ের মধ্যে ২২ জন মা মাদক মামলায়, ৪ জন নারী ও শিশু দমন আইনে, ২ জন বিশেষ ক্ষমতা আইনে, ২ জন হত্যা মামলায়, একজন মানবপাচার মামলায় এবং একজন দ্রুত বিচার আইনে বন্দি আছেন। এই ৩২ মায়ের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ৫ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩ মার্চ পর্যন্ত নারী কয়েদি ছিল ১৮৮ জন।

সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বাংলামেইলকে জানান, মায়ের সাথে বন্দি এসব শিশুর প্রতি কর্তৃপক্ষসহ কারাগারের সবাই সহানুভূতিশীল। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব শিশুর জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের উপহার দেয়। জেল কোড অনুযায়ী এসব শিশুর পুষ্টিকর খাবারও সরবরাহ করা হয়। তাদের জন্য কারা অভ্যন্তরে খেলাধুলা ও পড়াশোনার ব্যবস্থাও আছে। দুই জন শিক্ষক এসব শিশুকে পাঠদান করেন। এ ছাড়া আছেন চিকিৎসকও। প্রত্যেক শিশুকে তাদের শারীরিক অবস্থাভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করা হয়। খাবারের তালিকায় আছে মাছ, মাংস ও দুধ।
 
জাহাঙ্গীর কবির জানান, একটি হত্যা মামলার আসামি একজন মহিলা পাঁচ মাসের গর্ভবতী অবস্থায় জেলে আসার পর সেখানেই তার ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে ওই শিশুর বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার নাম নোটন হলেও সবাই তাকে চেনে ‘জেলশিশু’ নামে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব জানান, কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক নির্ধারিত ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা হয়। তবে এর বাইরেও প্রয়োজনসাপেক্ষে শিশুদের জন্য যখন যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করা হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তুলনায় কাশিমপুর কারাগারে নারীবন্দিদের বেশি সুযোগ-সুবিধা আছে। কাশিমপুর-৩ কারাগারটিই হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র নারী কারাগার। ৩০০ বন্দি ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে অনায়াসে ৬০০ জন থাকতে পারে। তাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সম্প্রতি বেশকিছু নারীবন্দিকে কাশিমপুর-৩ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এফ/১৭:২০/১৪মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে