Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১৩-২০১৬

জার্মানির প্রাদেশিক নির্বাচন: মেরকেলের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ 

জার্মানির প্রাদেশিক নির্বাচন: মেরকেলের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ 

বার্লিন, ১৩ মার্চ- জার্মানির তিনটি রাজ্যে চলছে প্রাদেশিক নির্বাচন। দেশটির ক্ষমতাসীন চ্যান্সেলর মেরকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনগুলো। অনেকে এই নির্বাচনকে মেরকেলের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ দেশটিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।

ধারণা করা হচ্ছে, শরণার্থী-বিরোধী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি পার্টি (এএফডি) এই নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় পেতে যাচ্ছে। শরণার্থী বিষয়ে মেরকেলের নীতি ‘ওপেন ডোর পলিসি’র বিরোধী তারা। জার্মানিতে ২০১৫ সালে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে মেরকেল সরকার।

অভিবাসন নীতি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জার্মানি। শরণার্থী বিষয়ে উদারনীতির কারণে বিরোধীদল এএফডি'র তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। তার জনসমর্থনও দিনদিন কমছে। রোববার শুরু হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে নিরাপত্তার জন্য আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আবারো উল্লেখ করেছেন মেরকেল।

শনিবার রাজধানী বার্লিনের রাস্তায় মার্কেল বিরোধী সমাবেশে অংশ নেয় কয়েক হাজার জার্মান। তাদের মুখে ছিল ’মেরকেলের পদত্যাগের দাবি। মুসলিম ও অভিবাসীবিরোধী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ’উই ফর বার্লিন, উই ফর জার্মানি’ নামে একটি সংগঠন, যাদের মূল দাবি মেরকেল সরকারের পতন। তাদের অভিযোগ এই সরকার অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ায় জার্মানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

বার্লিনসহ জার্মানির বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে এই বিক্ষোভ। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে। সেখানে প্রতি পাঁচজন ভোটারের একজন বর্তমান চ্যান্সেলরের অভিবাসন নীতির কট্টর বিরোধী। তারা এএফডির সমর্থক। এএফডি’র এক নেতা কিছুদিন আগে বলেছিলেন, সীমান্তরক্ষীরা প্রয়োজনে অবৈধ অভিবাসীদের গুলি করতে পারে।


এএফডির একটি জনসভা

তবে মেরকেলের মতে, রোববারের আঞ্চলিক নির্বাচনে জয় পাবে না এএফডি। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে জার্মানি বা ইউরোপের কোনো দেশে যারা আসছে, তাদের ঠেকাতে বা দেশে ফেরত পাঠাতে চাইছে তার সরকার।

মেরকেল বলেন, ’আমি বুঝতে পারছি অভিবাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের জনগণকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের সুযোগসুবিধা ভোগ করার আশা নিয়ে যারা সীমান্ত পাড়ি দেয়, তাদের পক্ষে আমিও নই। তবে যুদ্ধপীড়িত মানুষকে ঠাঁই দিতে না চাইলে জার্মানি বিশ্বের কাছে ছোট হয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি সেটা আমার দেশের মানুষ চায় না। তাই আমি আশা করবো, এএফডিকে ভোট দেবে না তারা।’

জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল অবশ্য মনে করেন, আঞ্চলিক নির্বাচনে এএফডির বিজয়ে সরকারের অভিবাসন নীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না। তবে এর মধ্যে কঠোর সীমান্ত নীতি ও অভিবাসী বিরোধী নীতির কথা বলে জার্মানির ১৬টি আঞ্চলিক পার্লামেন্টের মধ্যে পাঁচটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে এএফডি।

সব মিলিয়ে জার্মানির তিনটি অঙ্গরাজ্যে রোববারের ভোটে চ্যালেঞ্জের মুখেই আছেন মেরকেল। শরণার্থী ইস্যুটি সামনে নিয়ে এসে অনেকটা ‘ঝোপ বুঝে কোপা মারার’ কাজটিই করে যাচ্ছে এএফডি। তাছাড়া অনেক পশ্চিমা গণমাধ্যমও চায় না, মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীদের ইউরোপে আশ্রয় দেয়া হোক। এএফডির সাথে যোগ দিয়েছে এসব গণমাধ্যমও। তাই প্রাদেশিক নির্বাচনগুলো মেরকেলের জন্য আসলেই একটি অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এ অগ্নিপরীক্ষায় মেরকেলের ভাগ্য।

আর/১৮:৩২/১৩ মার্চ

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে