Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৩-২০১৬

কমনওয়েলথ যুব পুরস্কার পাচ্ছেন নাজবিন, তবে ভিসা মেলেনি

কমনওয়েলথ যুব পুরস্কার পাচ্ছেন নাজবিন, তবে ভিসা মেলেনি
সওগাত নাজবিন খান

ঢাকা, ১৩ মার্চ- কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের মধ্য থেকে মাত্র চারজনকে দেওয়া হচ্ছে ‘কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস ২০১৬’। এই চারজনের তালিকায় ময়মনসিংহের মেয়ে সওগাত নাজবিন খানও আছেন। ১৭ মার্চ কমনওয়েলথ দিবসে লন্ডনে এই পুরস্কার ঘোষণা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। কিন্তু দিল্লির ব্রিটিশ ভিসা অফিস দুই দফায় তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করায় নাজবিনের এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগদানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নাজবিনের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দি উপজেলায়। যাঁরা মানবসেবার ব্রত নিয়ে নিজ নিজ সমাজ ও রাষ্ট্রের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার। কমনওয়েলথ সচিবালয় তাদের খরচে পুরস্কারপ্রাপ্তদের লন্ডনে এনে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়। পুরস্কারটি দেওয়া হয় ৩০ বছরের কম বয়সীদের। নাজবিনকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য।

নাজবিন ময়মনসিংহে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছেলেমেয়েদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষা দেওয়ার কাজ করছেন। তিনি রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভারতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি এইচ এ ডিজিটাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবারের ৩৩৬ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীকে নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।

নাজবিন বলেন, শিক্ষা ব্যয় বহনে অভিভাবকদের সামর্থ্য না থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এ কারণে তিনি দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের কম খরচে সর্বাধুনিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠান করেন। এ জন্য ২০১১ সাল থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। ২০১৪ সালের ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গোহালকান্দি গ্রামে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দানের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যয় সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিতে কিস্তিতে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

নাজবিন আরও জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে শিক্ষা উপকরণ, যাতায়াত ব্যবস্থা, স্কুল পোশাকেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকেরা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার পূর্ণকালীন শিক্ষকদের ইংরেজি ও কারিগরি বিষয়ে পাঠদান করে থাকেন। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার এই পদ্ধতি ওই এলাকায় এক বছরে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুরস্কার পাওয়া বাকি তিনজন ক্যামেরুন, পাপুয়া নিউগিনি ও জ্যামাইকার। তাঁরা তিনজনই ইতিমধ্যে লন্ডনে পৌঁছে গেছেন। অথচ কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে ভিসার জন্য সব রকম কাগজপত্র দেওয়া হলেও দুই দফা নাজবিনের ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লির ব্রিটিশ ভিসা অফিস।

গতকাল রাতে সওগাত নাজবিন বলেন, ‘পুরস্কার গ্রহণ করতে আমাকে লন্ডনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় কমনওয়েলথ। তারা জানায়, ভিসা ফি, বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে লন্ডনে অবস্থানের সময়ের সব খরচ কমনওয়েলথ বহন করবে। ভিসার জন্য কমনওয়েলথ থেকে পাঠানো সব কাগজপত্রসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু দিয়ে আমি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভিসার জন্য আবেদন করি। কিন্তু আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সপ্তাহ খানেক পরে তারা আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আমি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। সে জন্য ১৪২ ইউরো লেনদেন ছিল।’

নাজবিন জানান, বিষয়টি কমনওয়েলথকে জানালে তারা দ্রুত পুনরায় আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং ভিসা পেতে তারা নিজেরা ভিসা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবে বলে জানায়। সে অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা আবেদন করেন নাজবিন। কয়েক দিন পর ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন তাঁর মোবাইলে ফোন করেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চলা ওই টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা নাজবিনের কাছে জানতে চান—তিনি কেন, কীভাবে এই পুরস্কার পেলেন, তিনি কী করেন, কোথায় থাকেন। বাসায় রুম কয়টি। বাসায় আর কে কে থাকে। তাঁর মাসিক আয় কত। ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর ৬ মার্চ আবারও তাঁর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তারা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে বলা হয়, তিনি লন্ডনে গিয়ে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

নাজবিন বলেন, ‘এটি আমার দেশকে অপমান। আমি দুবার ইউরোপ গিয়েছি। সাতটি দেশ ঘুরে এসেছি। জার্মানিতে পিএইচডি করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। অথচ আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দেশে ফিরে আসব কি না সন্দেহ রয়েছে।’

ঢাকা থেকে ব্রিটিশ ভিসা অফিস দিল্লি সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশিরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। নাজবিনের ঘটনাটি প্রমাণ করে, অভিযোগগুলো মোটেই মিথ্যা নয়।নাজবিনের ভিসার বিষয়ে জানার জন্য লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের। এরপর স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এফ/০৬:৫৯/১৩মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে