Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৩-২০১৬

গাইবান্ধায় বাদিয়াখালী সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

গাইবান্ধায় বাদিয়াখালী সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

গাইবান্ধা, ১৩ মার্চ- গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে নির্মিত বাদিয়াখালী সেতু। সাত বছর আগে বন্যায় সেতুর একাংশ বিধ্বস্ত হয়। সেখানে বসানো হয় ইস্পাতের পাটাতন। পরের বছর সেতুর আরেক অংশও ধসে পড়ে। এরপর সেতুটি মেরামত না করে এর ওপরই স্থাপন করা হয় ইস্পাতের বেইলি সেতু।

এই সেতু দিয়েই ছয় বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ জেলা শহরের সঙ্গে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই হচ্ছে এই সেতু। কিন্তু নতুন সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা এবং গাইবান্ধার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের পুরাতন বাদিয়াখালীর আলাই নদের ওপর কংক্রিটের সেতু নির্মিত হয়। আর এটাই বাদিয়াখালী সেতু নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হলেও আজ পর্যন্ত এটির কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি। ২০০৯ সালের বন্যায় সেতুর দক্ষিণাংশের কংক্রিটের তৈরি পাটাতনের প্রায় ১০ ফুট অংশ ধসে পড়ে। সে সময় বিধ্বস্ত অংশে ইস্পাতের পাটাতন বসানো হয়। জরাজীর্ণ কংক্রিটের কাঠামোর ওপর ইস্পাতের পাটাতন হওয়ায় পুরো সেতু আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল সেতুর উত্তরাংশের কংক্রিটের পাটাতনও ধসে পড়ে। ওই দিন থেকে প্রায় এক মাস জেলা শহরের সঙ্গে ফুলছড়ি ও সাঘাটার সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গাইবান্ধার সওজ বিভাগ বিধ্বস্ত কংক্রিটের সেতু কাঠামোর ওপরই ইস্পাতের বেইলি সেতু স্থাপন করে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বেইলির নিচের কংক্রিটের পাটাতন একাধিক স্থানে দেবে গেছে। কোনো কোনো স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। সেতুর উত্তরাংশের কংক্রিটের পাটাতনের কিছু অংশ ইতিমধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই অংশে শুধু ইস্পাতের পাটাতনের ওপর দিয়ে যান চলাচল করছে। সেতুর ছবি তোলার সময় পলাশবাড়ীর মহদিপুর গ্রামের ট্রাকচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘ভাই, কী করব, দোয়া পাঠ করে সেতু পার হচ্ছি।’

সেতুসংলগ্ন সদর উপজেলার পুরাতন বাদিয়াখালী গ্রামের ব্যবসায়ী শামিম-উল-হক বলেন, সেতুর উভয় পাশে বাদিয়াখালী বাজারসহ অসংখ্য দোকানপাট। ফলে সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন পারাপারে ভিড় লেগেই থাকে। কংক্রিটের দুর্বল ভিত্তির ওপর ইস্পাতের বেইলি কাঠামো বসানোয় সেতুটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। সেই সঙ্গে কংক্রিটের ওপর ইস্পাতের বেইলি সেতু করায় মূল সেতুটি অস্বাভাবিক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে দুই প্রান্ত থেকেই সেতুতে উঠতে গিয়ে যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। বাদিয়াখালী বাজারের চাকরিজীবী বিমল কুমার বলেন, সেতুতে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রতিদিন অনেক যানবাহন উল্টে আশপাশের দোকানের ওপর গিয়ে পড়ছে। 

বাদিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সেতুর ওপর দিয়ে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। অথচ নতুন সেতু নির্মাণে সওজ বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম খান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ সেতু নির্মাণের জন্য ১১ কোটি ২৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব সড়ক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

এস/০২:৩০/১৩ মার্চ

গাইবান্দা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে