Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৩-২০১৬

‘ফাঁসি কাশিমপুরেই চান মীর কাসেম’

‘ফাঁসি কাশিমপুরেই চান মীর কাসেম’

গাজীপুর, ১৩ মার্চ- গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে দেখা করেছেন তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন।

শনিবার এই সাক্ষাতের পর তার ছোট ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম জানান, তার বাবা জেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন, তাকে ফাঁসি দেওয়া হলে যেন কাশিমপুর কারাগারেই দেওয়া হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৮ মার্চ মীর কাসেমকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেয়।

জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান ব্যক্তি। তার যোগানো অর্থেই স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী শক্ত ভিত্তি পায়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়শা খাতুন, ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম, মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়া, পুত্রবধূ তাহমিনা আক্তার ও সায়েদা তাহমিদা আক্তার, ভাতিজি আফরোজা জয়নবজসহ সাতজন তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসেন। প্রায় আধা ঘণ্টা তারা কারাগারের একটি কক্ষে তার সঙ্গে কথা বলেন।

“প্রতিমাসে একবার মীর কাসেমের পরিবারের লোকজন আসেন। এবার ফাঁসির রায় বহালের আদেশের পর শনিবারই প্রথম পরিবারের ওই সদস্যরা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে দেখা করলেন।”

মীর কাসেমের ছোট ছেলে মীর আহমদ বলেন, ফাঁসির রায় বহালের ব্যাপারে তার বাবা বলেছেন, তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

“আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পরই ন্যায় বিচার চেয়ে আদালতে রিভিউ আবেদন করব। দেখা করার সময় তিনি সুস্থ ও প্রফুল্ল ছিলেন।”

“আপিলে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহালের সময় বাবা জেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন, সবশেষেও যদি তাকে ফাঁসিই দেওয়া হয়, তা যেন কাশিমপুর কারাগারেই দেয়া হয়,” বলেন মীর আহমদ।

মীর কাসেমকে ২০১২ সালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ আনা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর তাকে কারাগারের ফাঁসির সেলে নেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি ফাঁসির সেলেই আছেন।

একাত্তরে চট্টগ্রামে আলবদর বাহিনীর ‘টর্চার সেল’ হিসেবে খ্যাত ডালিম হোটেলে নির্যাতিতরা মনে করেন, সেসময় চট্টগ্রাম শহরে আলবদর বাহিনীর প্রধান এবং অপারেশন কমান্ডার হিসেবে সব ধরনের নির্যাতন ও হত্যার দায় মীর কাসেম আলীর ওপরই বর্তায়।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন রাজধানীর মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যুদ্ধাপরাধের বিচার।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম। দেড়শ’ পৃষ্ঠার মূল আবেদন ও এক হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ করা আপিলে তিনি সাজা বাতিল করে খালাস চান।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ।

পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ। তবে রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ‘রিভিউ’ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে।

রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

এস/০২:২০/১৩ মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে