Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৩-২০১৬

নওগাঁয় চিকিৎসকের ৪৭ শতাংশ পদ শূন্য

ওমর ফারুক


নওগাঁয় চিকিৎসকের ৪৭ শতাংশ পদ শূন্য

নওগাঁ, ১৩ মার্চ- নওগাঁর ১১টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৭ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১১টি উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৭১ পদের মধ্যে ১২৮টিই এখন শূন্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে একমাত্র আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অস্ত্রোপচারে শিশুর জন্ম হয়। প্রয়োজনীয় শল্য চিকিৎসক না থাকায় অন্যান্য রোগের অস্ত্রোপচার করা হয় না। এ ছাড়া বাকি ১০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনোটিতে অবেদনবিদ, আবার কোনোটিতে শল্য চিকিৎসকের অভাবে কোনো অস্ত্রোপচার হয় না।

জেলার ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক আছেন সবচেয়ে কম। এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৯টি পদ থাকলেও ২১টিতেই চিকিৎসক নেই।

গত বৃহস্পতিবার ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা হয় সন্তানসম্ভবা জাহানারা বেগমের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘এটাত কোনো গাইনি ডাক্তার নাই। জয়পুরহাট যাওয়া লাগবে। এখন টাকা ও সময় দুটাই নষ্ট হোবে।’

ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাজেদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিনজন চিকিৎসক সেবা দেন। এই চিকিৎসক দিয়েই প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগীর সেবা দিতে হয়। শল্য চিকিৎসক ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকার কারণে এখানে কোনো অস্ত্রোপচার করা যায় না।

পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬টি পদের বিপরীতে ৭ জন চিকিৎসক আছেন। আর সাপাহারে ২৭ পদের মধ্যে আছেন ১২ জন চিকিৎসক। ধামইরহাট, পোরশা ও সাপাহার—এই তিন উপজেলা সীমান্ত-সংলগ্ন এবং দুর্গম। তাই তিন উপজেলায় চিকিৎসকেরা নিয়োগ পাওয়ার পরপরই অন্য উপজেলা বা জেলায় বদলির জন্য আবেদন করেন বলে জানান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নওগাঁ শাখার সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলাগুলো থেকে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই অনেকে বদলি হয়ে যান।

বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে মহাদেবপুর, মান্দা, বদলগাছি, পত্নীতলা, রানীনগর, আত্রাই, নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতেই অর্ধেক বা এর বেশি পদে চিকিৎসক নেই। তবে একমাত্র সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি অনুমোদিত পদের প্রতিটিতেই চিকিৎসক রয়েছেন।

শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেই নয়, চিকিৎসক-সংকট রয়েছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতালেও। এই হাসপাতালে ৪২ জন চিকিৎসক পদে চিকিৎসক আছেন ৩২ জন। অথচ এই হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রায় এক হাজার রোগী সেবা নেন।

গতকাল শনিবার আধুনিক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়ন থেকে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে এসেছেন মেহেরনেগার বেগম। বললেন, ‘আউটডোরে টিকিটের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এত লম্বা লাইন শেষই হয় না। এদিকে বাচ্চার শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখালে ওকে ওষুধ খাওয়াতে পারতাম।’

সদর আধুনিক হাসপাতালের আরএমও মাহফুজার রহমান বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০ জন রোগী সেবা নিতে আসে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে আটজন চিকিৎসক সেবা দেন। সে হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক ২৫ জন করে রোগী দেখেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আনজুমান আরা খানম বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় পুরো জেলার রোগী এবং বগুড়ার আদমদিঘী ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের অস্ত্রোপচারের রোগীও এখানে আসে। হাসপাতাল তো নয়, যেন শরণার্থী শিবির চালাতে হয় আমাদের।’

সিভিল সার্জন এ কে এম মোজাহের হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালগুলোতে শূন্য পদের একটি তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই চিকিৎসক-সংকটের এই সমস্যা কেটে যাবে।’

এস/০২:১৫/১৩ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে