Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১২-২০১৬

রাগীবের দখল থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু

রাগীবের দখল থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু

সিলেট, ১২ মার্চ- সিলেটে তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধভাবে স্থাপন করা মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ যাবতীয় আবাসিক স্থাপনা অপসারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেটের জেলা প্রশাসন।

আপিল বিভাগের রায়ের কপি সম্প্রতি সিলেটে পৌঁছালে রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে গত বৃহস্পতিবার নোটিশ করা হয়েছে। এতে আদালতের রায় বাস্তবায়নে তাঁরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে। সিলেটের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরেট (আরডিসি) মুহা. মাছুম বিল্লাহ তাঁর স্বাক্ষরিত নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশ পাঠানোর আগে জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রশাসনের প্রতি উচ্চ আদালতের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হবে।

সিলেটে অবস্থানকালে রাগীব আলী মালনীছড়া চা-বাগানের বাংলোয় থাকেন। তিনি কোথায় আছেন—জানতে চাইলে বাংলোর তত্ত্বাবধায়ক ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে যান। পরে রাগীব আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে একজন ফোন ধরেন এবং পরিচয় জেনে এক মিনিট পর ফোন দিচ্ছেন বলে জানান। পরে আবার ফোন করা হলে ওপাশ থেকে বলা হয়, ‘অনে মাত-তাম নায়...(এখন কথা বলব না)’। রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সিলেট নগরের পাঠানটুলার উপকণ্ঠে তারাপুর চা-বাগান। ৪৪৪ একর টিলাভূমির এই চা-বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। রাগীব আলী ওই চা-বাগান বন্দোবস্ত নেন জালিয়াতির মাধ্যমে একজন ভুয়া সেবায়েতের কাছ থেকে। সেখানে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রাগীব আলী ও তাঁর স্ত্রীর নামে মেডিকেল কলেজ। তাঁর স্ত্রীর নামে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটও রয়েছে। এসব স্থাপনার পাশাপাশি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের আবাসন, তিন শতাধিক প্লটে বাসাবাড়ি রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ভূমি-সংশ্লিষ্ট শাখার সূত্র জানায়, চা-বাগানের জায়গায় বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তদন্তে ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি একটি উপকমিটি করে। ওই কমিটি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে চা-বাগান পুনরুদ্ধার করার সুপারিশ করেন। এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূসম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল হাই দুটি মামলা করেন। মামলায় তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী (প্রয়াত), ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে ও জামাতাকেও আসামি করা হয়।

রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে রিট করলে আদালতের নির্দেশে মামলা স্থগিত হয়। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ১৯ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চা-বাগানে নির্মিত সব অবকাঠামো আগামী ছয় মাসের মধ্যে অপসারণ করে সে জায়গায় চা-বাগান করার আদেশ দেওয়া হয়। রায়ে ১৭টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্থগিত হওয়া দুটি মামলা পুনরায় সক্রিয় করারও নির্দেশনা রয়েছে। রিট আবেদনকারীরা তা করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহায়তা নিয়ে স্থাপনা অপসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়। এ খাতে ব্যয় হওয়া অর্থ জেলা প্রশাসক রিট আবেদনকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে জেলা প্রশাসনের প্রতি বলা হয়, রিট আবেদনকারীরা যদি এ আদেশ না মানেন, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। উপযুক্ত জায়গায় মেডিকেল কলেজটি স্থানান্তর করা না হলে রিট আবেদনকারীর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করবেন এবং প্রয়োজনে এসব হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। রিট আবেদনকারীরা যদি চা-বাগান পুনর্নির্মাণে ব্যর্থ হন, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক একটি কমিটি গঠন করে এ কাজটি সম্পন্ন করবেন। এ বাবদ যে টাকা ব্যয় হবে, তা রিট আবেদনকারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায় করবেন।

এস/১৯:২০/১২ মার্চ

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে