Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১২-২০১৬

১৫শ বছর ধরে ইলোরাকে রক্ষা করছে গাঁজা

১৫শ বছর ধরে ইলোরাকে রক্ষা করছে গাঁজা

পৃথিবীতে যতগুলো চমৎকার জিনিস রয়েছে তার মধ্যে গাঁজা অন্যতম। আইনের চোখে গাঁজা কেমন সেটা বড় কথা নয়। মানুষ একে কি চোখে দেখে সেটাই হচ্ছে আসল কথা। হাতে গোনা কিছু বেরসিক মানুষ ছাড়া সবাই কমবেশি একমত হবেন যে, গাঁজার মত জিনিস নাই। মজার বিষয় হচ্ছে, গাঁজাকে নেশা দ্রব্য বিবেচনা করা হলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর একটা বড় ভুমিকা রয়েছে। গাঁজার গুণের শেষ নেই। এবার প্রত্নতাত্ত্বিকরা গাঁজার আরেকটি গুণ খুঁজে বের করেছেন।

ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করেছেন, গাঁজা একটি শক্তিশালী প্রিজারভেটিভ বা ক্ষয়রোধক। কারণ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের মহারাষ্ট্র রাজ্যের প্রাচীন ইলোরা গুহা বহু বছর ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছে এই গাঁজা। নতুন এই আবিস্কারে দেখা যায়, গাঁজা, কাদামাটি এবং চুনসুরকির একটা মিশ্রণে তৈরি হওয়া পলেস্তোরার কারণে ইউনেস্কোর এই বিশ্ব ঐতিহ্যস্থান ক্ষয়প্রাপ্ত হয়নি। এখনো সুরক্ষিত রয়ে গেছে।

নতুন গবেষণাটি করেছেন ভারতের নামকরা প্রত্নতাত্ত্বিক রাজদেও সিং এবং উদ্ভিদবিদ এমএম দেশাই মিলে। গবেষণার ফলাফল মতে, ৬ষ্ঠ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই গুহার প্রাচীন নকশা এবং চিত্রকর্ম রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে গাঁজা। গবেষণার কাজে তারা ব্যবহার করেছেন ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম, ইনফ্রারেড স্পেকট্রোসকপি এবং স্টেরিও-মাইক্রোস্কোপির মত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সবশেষে নিশ্চিত হয়েছেন, সংরক্ষণ কাজে আসল ভূমিকা ছিল ক্যানাবিস স্যাটিভা গাছের। এই গাছই গুহার ভেতরে পোকা মাকড় ঢুকতে দেয় নি। ক্যানাবিস স্যাটিভা হচ্ছে গাঁজা গাছ।

ইলোরা গুহা তৈরি করা হয়েছিল ৫ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে। এখানে সারিবদ্ধভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের ৩৪টি গুহা রয়েছে। যে কারণে এটা পাথর খোদাই করে তৈরি ভারতীয় স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন। চরনন্দ্রী পাহাড় কেটে বানানো এই গুহাতে আরও রয়েছে মন্দির, মঠ এবং বিহার।


মজার বিষয় হচ্ছে, ইলোরা গুহার পাশেই আরেকটি ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থান রয়েছে অজন্তা কমপ্লেক্স নামে। এখানেও বৌদ্ধদের তৈরি করা ৩০টি গুহা রয়েছে। এই গুহায় গাঁজা গাছ নেই। গবেষকরা বলেছেন, সেই কারণেই পোকামাকড় অজন্তা গুহার দেয়ালের ২৫ শতাংশ চিত্রকর্ম নষ্ট করে দিয়েছে।

এটা শুধু ভারতের নয়, সারা পৃথিবীর গাঁজাখোরদের জন্য একটা আনন্দের বিষয়। এতদিন গাঁজাকে যারা শুধু মাদকদ্রব্য হিসেবে হেয় করে দেখতো, এবার তারা হিসেব করে কথা বলবে! গাঁজা মোটেও হেলাফেলা করার জিনিস না। এটা শক্তিশালী প্রিজারভেটিভ! তার মানে কি এখন থেকে ভারতের নির্মাণ শিল্প সংরক্ষণে গাঁজা ব্যবহার শুরু হবে? সে প্রশ্নই আসে না।

সংশয়বাদীরা আগে ব্যাপারটা যাচাই বাছাই করবেন, তার পরে সিদ্ধান্ত। তাদের ধারণা, এতো সহজে গাঁজা বৈধ হলে সবাই দ্রুত গাঁজাখোরে পরিণত হবে। ভারতের বর্তমান আইনে গাঁজার চাষবাস ও সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগে গাঁজার ওপরে বর্তমান আইন সংশোধন করতে হবে, তার পরে বিশালাকারে শুরু করা যাবে গাঁজার চাষ। যারা গোপনে এমন একটা দিনের জন্য অপেক্ষায় আছেন তারা আরেকটু অপেক্ষা করুন!


ক্যানাবিস স্যাটিভা (গাঁজা) গাছ

এফ/০৯২৫/১২মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে