Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১২-২০১৬

সিলেটে বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ

সিলেটে বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ

সিলেট, ১২ মার্চ- বৃহত্তর সিলেটের বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সিলেটের ৪টি জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় (পিইসি) বসে কমিশন। সভায় প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে খোদ কমিশনই প্রশ্ন তুলেছে। প্রকল্পে নানা অসঙ্গতি আর ভুলে ভরা বলে মনে করছে কমিশন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগে এক কোটিরও বেশি লোকের বসবাস। এ বিভাগে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পকারখানার প্রসার ঘটতে দ্রুত। তাছাড়া পর্যটন শিল্পেও সমৃদ্ধ জনপদ সিলেট। এজন্য এ বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্র“টি।

সিলেটের এই বিদ্যুৎ সমস্যার নিরসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। গতবছরের মার্চে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সিলেটে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ওই কমিটি বিদ্যুতের চাপ ও চাহিদা পূরণে এক হাজার ৬৯৪ কোটি টাকার এক প্রকল্প হাতে নেয়ার প্রস্তাব দেয়।

বর্তমানে ওই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। তন্মধ্যে এক হাজার ৭৩১ কোটি টাকা দেবে সরকার এবং বাকি ১৩৫ কোটি টাকা দেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করবে পিডিবি।

প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৫০০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ, প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার লাইন সংস্কার, ২২টি এমভিএ জিআইএস সাব-স্টেশন স্থাপন ও সংস্কার, ১৭টি বে-এক্সটেনশন ইন গ্রিড সাব-স্টেশন স্থাপন, ৩৪৮৫টি বিতরণ স্টেশন স্থাপন ও সংস্কার, আবাসিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ প্রভৃতি।

প্রায় ১৫ দিন আগে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ মেগা প্রকল্পের প্রস্তাবনায় ভুল, বিভিন্ন তথ্যে অসঙ্গতি এবং বেশিরভাগ উপাদানে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। গঠিত কমিটির ব্যয় প্রস্তাবনার চেয়ে  প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় (ডিপিপি) ১৭৩ কোটি টাকা বেশি ধরা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদানের মূল্য বেশি ধরা হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। উদাহরণস্বরূপ- বর্তমান রেট শিডিউল অনুসারে ৩৩ কেভি ও/এইচের মূল্য প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ৩৪ লাখ টাকা, কিন্তু প্রস্তাবিত প্রকল্পে তা ৪২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া ৩৩/১১ কেভি এস/এসের বর্তমান মূল্য প্রতি কিলোমিটারে ২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা হলেও প্রকল্পে ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।

জানা যায়, বিদ্যুতের চাহিদা, বর্তমান সামর্থ্য, গ্রাহক সংখ্যা, ২০৩০ সাল পর্যন্ত চাহিদা, প্রকল্পের অর্জন, সুবিধাভোগীদের মতামত এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও নীতির সঙ্গে প্রকল্পটির সম্পৃক্ততা বিস্তারিত প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতাধীন এলাকার মধ্যে ৯টিতে তথা সিলেট সিটি করপোরেশন, জৈন্তাপুর, সুনামগঞ্জের ছাতক, সুনামগঞ্জ সদর, দিরাই, জগন্নাথপুর, হবিগঞ্জ সদর, মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়ায় বর্তমানে অন্য আরেকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে কর্ম এলাকা পৃথক নাকি একই কাজ ওভারল্যাপিং করা হচ্ছে, এর কোনো তথ্য নেই প্রস্তাবনায়।

সূত্র জানায়, প্রকল্প প্রস্তাবনায় ২২টি পিকআপ, ৩টি জিপ, ৩টি ট্রাক, ৫০টি মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কিন্তু কমিশন এতো বেশি যানবাহন ক্রয়ের যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করছে। এছাড়া প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকার আবাসিক ভবন, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশাসনিক ভবন, সাড়ে ৩ কোটি টাকার ড্রেন এবং সোয়া ৫ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জানতে চেয়েছে কমিশন।

প্রকল্পের অধীনে ১২ এক জমি অধিগ্রহণের জন্য ৩২ কোটি টাকা এবং ভূমি উন্নয়ন বাবদ ২ কোটি টাকা ব্যয়ে যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে কমিশনের। প্রকল্পে প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় এক কোটি টাকা ধরা হলেও কাদেরকে, কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, তার বিবরণ না থাকায় প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এছাড়া মূলধন খাতে ২০ কোটি টাকা পরিবহন ব্যয়ও অযৌক্তিক বলে অভিমত কমিশনের।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস  বলেন, সিলেটের বিদ্যুৎ সমস্যার নিরসনকল্পে ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এন্ড ডেভলাপমেন্ট’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রায় ১৫ দিন আগে এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে প্রস্তাবনার বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঠিত কমিটি প্রায় দেড় বছর আগে তাদের প্রস্তাবনা দিয়েছিল। সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব উপাদানের মূল্যই বেশি। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাবনায় মূল্য বেশি দেখানো হয়েছে। রতন কুমার বলেন, প্রকল্পটি সংশোধনের পর একনেকে পাস হলে কাজ শুরু করতে করতে বছরখানেক লাগতে পারে।

এফ/০৮:৫৮/১২মার্চ

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে