Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১১-২০১৬

লিবিয়া ইস্যুতে ক্যামেরনের তীব্র সমালোচনায় ওবামা 

লিবিয়া ইস্যুতে ক্যামেরনের তীব্র সমালোচনায় ওবামা 

ওয়াশিংটন, ১১ মার্চ- লিবিয়ার বর্তমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া একটি নৈরাজ্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার নিন্দা করেন ওবামা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এই প্রথম ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের কোনো নেতার এত তীব্র সমালোচনা করলেন। এ ধরনের সমালোচনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে গণমাধ্যমটি।   

ওবামা বলেন, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় বিদ্রোহীদের পক্ষে সফল একটি সামরিক হস্তক্ষেপের পরও লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর সবচেয়ে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা।

মার্কিন একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা আরো বলেন, ‘যখন আমি সেই সময়ের কথা স্মরণ করি এবং নিজেকে প্রশ্ন করি, কোথায় ভুল ছিল। তখন সমালোচনার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পাই। কারণ লিবিয়ার ব্যাপারে ইউরোপীয়দের ওপর আমার অধিক আস্থা ছিল।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গাদ্দাফি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন করণে দিশেহারা হয়ে লিবিয়ার ওপর থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন ক্যামেরন।

২০১১ সালে আরব বসন্ত শুরু হলে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরুর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন এবং ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি। শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফির পতন হলেও নতুন করে সহিংসতা এর গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে লিবিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় আইএসের একটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয় দেশটি।


বারাক ওবামা বলেন, ‘আমি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি। আমি মনে করেছিলাম, যেহেতু আমরা জাতিসংঘের সমর্থন পেয়েছি, একটি জোট করেছি এবং ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ও করতে যাচ্ছি, তাই সহজেই একটি সামরিক অভিযান চালাতে পারবো। আমরা বেসামরিক লোকদের বড় মাত্রার ক্ষয়ক্ষতিও এড়াতে পেরেছিলাম এবং দীর্ঘ সময় ধরে যাতে সংঘর্ষ না চলে তার ব্যবস্থাও করেছিলাম। এতকিছু সত্ত্বেও লিবিয়ার নৈরাজ্য ঠেকানো গেলো না।’

ধারণা করা হচ্ছে, ওবামার এ মন্তব্য ক্যামেরনের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হবে। ইতিমধ্যে লিবিয়াতে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপে যুক্তরাজ্যের জড়ানোর ব্যাপারে চাপের মধ্যে আছেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে সিরিয়া এবং ইরাকে আরো একটি যৌথ হামলা চালানোর জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে ক্যামেরনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এর আগেও তিনি বারবার তিনি (ক্যামেরন) স্পষ্ট করেছেন যে লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপকে তিনি পুরোপুরি সঠিক বলে মনে করেন। তাছাড়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে জি-এইট সম্মেলনে লিবিয়া ইস্যুতে অন্য দেশগুলোর সমর্থনও পেয়েছেন ক্যামেরন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের (ওবামা) পর্যালোচনার সাথে যুক্ত করতে চাই যে লিবিয়াতে কিছু বাস্তব পরিবর্তন এসেছে। আর এ কারণেই আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে মিলে সেখানে স্থিতিশীলতা আনতে কাজ করে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, চার বছর আগে ন্যাটো সমর্থিত এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাত রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। লিবিয়া সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা পদক্ষেপও উল্লেখযোগ্য কোনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি।

জাতিসংঘ সমর্থিত ঐকমত্যের সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে দেশটির পার্লামেন্ট। চলমান অস্থিরতা নিরসনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে নতুন ওই সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়ারা বিভিন্ন ভূখন্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর/১৮:৩৫/১০ মার্চ

আফ্রিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে