Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১০-২০১৬

ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতি : স্বীকারোক্তি শেষে পিটার আরো ৫ দিনের রিমান্ডে

ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতি : স্বীকারোক্তি শেষে পিটার আরো ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা, ১০ মার্চ- ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় বনানী থানার তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় পোলিশ নাগরিক পিটারকে স্বীকারোক্তি শেষে অন্য আরেকটি মামলায় আরো পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার পিটার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আাদলতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

একইদিন স্বীকারোক্তি শেষে গুলশান থানার অপর একটি মামলায় আসামি পিটারকে আরো পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান।

নতুন এই মামলাটিতে তাকে আদালতে হাজির করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ।

এর আগে পিটারকে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তৃতীয় দফায় চারদিন রিমান্ড চলাকালে পিটার স্বীকারোক্তি করতে চাইলে তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে গুলশান থানার মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই আসামিদেরকে ছয়দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই জিজ্ঞাসাবাদে এসব আসামিদের সাথে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অনেকেরই জড়িত থাকার কথা মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়াও ২২ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, একটি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশে এই জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত। গ্রেপ্তারকৃত পোলিশ নাগরিকও ওই চক্রের সদস্য।

এর আগেও তারা অনেকবার বিদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম বুথের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু বিদেশে অ্যাকাউন্ট হওয়ায় তা ধরা পড়েনি। কিন্তু এবার বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করায় তা কয়েকটি ব্যাংকের নজরে আসে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই জালিয়াতি চক্রের সাথে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন ও পোল্যান্ডভিত্তিক চক্র ইউরোপসহ আফ্রিকার দেশগুলোতে সক্রিয় আছে।’

বাংলাদেশে এটিএম বুথে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনার সাথে একজন বুলগেরিয়ান, একজন ইউক্রেনিয়ান, লন্ডন প্রবাসী একজন বাংলাদেশি এবং সিটি ব্যাংকের ওই তিন কর্মকর্তা জড়িত। তবে ওই দুই বিদেশি ঘটনাটি প্রকাশের আগেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে পুলিশ।

মনিরুল জানান, পিটার এক বছর আগে ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। তিনি আদম ব্যবসা করেন বলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানান। কিছু সংখ্যক মানুষকে তিনি বিদেশেও পাঠিয়েছেন। তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল এটিএম বুথে জালিয়াতি করা।

ওই ব্যবসার আড়ালে পিটার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের লোকজনের সাথে সম্পর্ক গড়তে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে তিনি সিটি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের এই তিন কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক গড়েন। ওই তিন কর্মকর্তা পাঞ্চ মেশিনের সাহায্যে নকল কার্ড তৈরি করে পিটারকে সহযোগিতা করেন।

পিটার এক বছর আগে আসার পর এখানে এক বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়েও করেন। তাদের একটি সন্তানও আছে। পিটারের মূল নাম থমাস। ইউক্রেনে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি মূলত জার্মান নাগরিক। কিন্তু অন্যের পাসপোর্ট চুরি করে তিনি থমাস থেকে পিটার বনে যান। পিটার নাম ধারণ করে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার কাছ থেকে পোলিশ পাসপোর্ট এবং জার্মান নাগরিকত্বের একাটি কার্ডও পাওয়া গেছে।

এই আন্তর্জাতিক চক্রটি উন্নত বিশ্বের বহু দেশে এভাবে এটিএম বুথ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই চক্রের সদস্যরা কোনো একটি দেশে বেশিদিন থাকে না। পিটারের ভিসার মেয়াদ মাত্র কয়েকদিন আগে শেষ হয়েছে।’

গত ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ইউসিবিএল, সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। পরে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরপর এ বিষয়ে বনানী থানায় ব্যাংকগুলো মামলা করে। পরে মামলার তদন্ত হাতে নেয় ডিবি পুলিশ।

আর/১১:৪৪/১০ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে