Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১০-২০১৬

আরেকটি বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড রোমাঞ্চ?

অনীক মিশকাত


আরেকটি বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড রোমাঞ্চ?

ধর্মশালা, ১০ মার্চ- শক্তি-সামর্থ্যে যতই পিছিয়ে থাকুক আয়ারল্যান্ড, মাঠের পারফরম্যান্সে বরাবরই বিপজ্জনক দল তারা। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মুখোমুখি হলে ঘাম ছুটিয়ে দিতে ছাড়ে না আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আইরিশদের একটি জয় আছে, কাঁপিয়ে দিয়েছিল সর্বশেষ দুই ম্যাচেও।

টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ট্রেন্ট ব্রিজে আইরিশরা জিতেছিল ৪ উইকেটে। ব্যাট হাতে ১৬ বলে ৩৩ করার পর বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেতাতে পারেননি দলকে।

তবে দুই দলের পরের তিন টি-টোয়েন্টিই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে মুশফিকুর রহিমের দল জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।  

তবে এই ব্যবধান দেখে বোঝার উপায় নেই, সিরিজটি আসলে কতটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছিল। এই ফলাফল বলছে না, শেষ দুটি ম্যাচে আইসিসির সহযোগী দেশটিকে হারাতে কতটা বেগ পেতে হয়েছে টেস্ট খেলুড়ে দেশ বাংলাদেশকে। একটু এদিক-সেদিক হলে সিরিজের ফল আয়ারল্যান্ডের পক্ষে হতে পারত ২-১।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম জয়টি ছিল ৭১ রানের। বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানির দারুণ বোলিংয়ে সেই ম্যাচে লক্ষ্যের ধারে কাছে যেতে পরেনি স্বাগতিকরা। সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকে ১৯০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। অভিষেকে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে একাই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দলকে ১১৯ রানে থামিয়ে দেন সানি।

বেলফাস্টে পরের দুই ম্যাচ জিততে নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দিতে হয় মুশফিকুর রহিমের দলকে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই সময়ের ‘ফিনিশার’ নাসির হোসেনের ৩৩ বলের অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ।

আগের ম্যাচে আইরিশদের কাছে দুর্বোধ্য সানি এই ম্যাচেও নেন দুই উইকেট। কিন্তু অন্যরা খুব একটা ভালো না করায় জয়ের পথেই ছিল আয়ারল্যান্ড। অসাধারণ এক শেষ ওভারে স্বাগতিকদের হৃদয় ভেঙে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রান প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট হাতে থাকা আয়ারল্যান্ডের। মাহমুদউল্লাহর প্রথম দুই বলে দুটি এক রান নেন দুই স্বাগতিক ব্যাটসম্যান। তৃতীয় বল ডট আর পরের দুই বলে পয়েন্টার ও এড জয়েসকে ফিরিয়ে দলের জয় এক রকম নিশ্চিত করে ফেলেন অফ স্পিন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ।

শেষ বলে জনস্টনের ছক্কা পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনে এক রানে।

বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া আয়ারল্যান্ড পরের ম্যাচেও ভীষণ চাপে ফেলেছিল অতিথিদের। দুই দলের শেষ টি-টোয়েন্টি হয়ে থাকা সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ত্রাতা ছিলেন বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শেষ বলে পাওয়া দুই উইকেটের জয়ে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ান মাশরাফি। ষষ্ঠ বোলার হিসেবে বল হাতে নিয়ে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি, এখনও যেটি টি-টোয়েন্টিতে তার সেরা বোলিং। আয়ারল্যান্ড আটকে যায় ১৪০ রানে।  

তামিম ইকবালের সঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুলের উদ্বোধনী জুটিতে সহজ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ৬২ থেকে দলের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ৮৭! মাশরাফি এবার ত্রাতা হয়ে ওঠেন ব্যাট হাতে। যখন উইকেটে গিয়েছিলেন ৪.৫ ওভারে দলের প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান, হাতে ৪ উইকেট। চার ছক্কায় মাশরাফি করেন ১৩ বলে ৩০। চার ছক্কার তিনটিই আসে জর্জ ডকরেলের চার বলের মধ্যে।

শেষ ওভারে অধিনায়ক মুশফিক আউট হলে তীরে এসে প্রায় ডুবছিল তরি। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক-ইলিয়াস রোমাঞ্চকর উত্তেজনার ম্যাচে শেষ বলে দলকে জয় এনে দেন।

ওমানের কাছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে তেতে আছে আয়ারল্যান্ড। আশা বাঁচিয়ে রাখতে সর্বশক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে দলটি। শুক্রবার ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিশেন মাঠে তাই দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড রোমাঞ্চের আরেকটি অধ্যায়।

আর/১০:৩৯/১০ মার্চ

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে